মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে না শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার চাপ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে ফেলেছে সাজগোজের রিমি নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের প্রত্যাশা কীভাবে নিবেন একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও স্মার্ট ডিসিশন ফ্রেশাররা কেন চাকরি পায়না ইন্টারভিউ নেয়ার সঠিক ও জরুরি কৌশল ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত মিটিং করার আগে ভাবুন তারুণ্যের উৎসব বাংলাদেশ ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম-২০১৮ অনুষ্ঠিত হবে ৩০শে অক্টোবর ভয়ংকর আগস্ট ভালো হতে চেয়েছিলাম (ছোটগল্প) এইচআর নিয়ে একডজন ভুল ধারনা এবং উত্তর বিশ্ব শান্তির প্রসারে দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি সামিট অনুষ্ঠিত আত্মহত্যা নয়, জীবনকে উপভোগ করুন

স্বল্প বাজেটে নেপাল ভ্রমন

জুনায়েদ সাব্বির আহমেদ

ক। ভূমিকা

প্রথমেই ডিসক্লেইমার, এটা কোনও ট্রাভেল গাইড নয়, এটা শুধুমাত্র আমার নিজের বেশ কয়েকবার নেপাল ভ্রমনের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু (আমার ধারনা) গুরুত্বপূর্ন তথ্য, যা প্রথমবার ভ্রমনার্থীদের জন্য ফায়দা দিবে। কোনও ট্রাভেল এজেন্ট ছাড়াই আরও কম খরচে ঘুরেআসা যাবে হিমালয়ের দেশ।

বেড়াতে যাবার জন্য, নেপাল কি নেপাল কেমন ইত্যাদি জানতে উইকিপিডিয়া আর গুগল সার্চ করুন, কারন আমি অযথা একই তথ্য বারবার ইন্টারনেটে কপি পেস্টের বিরুদ্ধে। বরং ভ্রমন করতে দেশের বাইরে নেপাল কেন যাবেন সেটা আমি বলতে পারবো। প্রথম কারন, বিশালত্ব কি জিনিস অনুধাবন করতে চাইলে হিমালয়ের সামনে দাড়িয়ে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখতে হয়। দ্বিতীয় কারন, নেপাল যাওয়া অনেক কম খরচ, আবার অনেক বেশি খরচ’ও। মানে,চাইলেই নেপালে একটা খুব বাজেট ট্রিপ দেয়া যায়, আবার পকেটে পাত্তি থাকলে রাজা বাদশা স্টাইলেও চলা যায়। খরচের বিবরন নিচে দিচ্ছি। তৃতীয়কারন, পৃথিবীতে খুব কম দেশ আমাদের চেয়ে গরিব, নেপাল তাদের মধ্যে একটা। সেই কারনে মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর গেলে যেভাবে মাথার মধ্যে পকেটে থাকা রিঙ্গিত বা ডলারের হিসাব চলতে থাকে, নেপালে সেটা নেই। কারন নেপালে ১০০রুপি (নেপালি) মানে নিশ্চিন্তে বাংলা টাকা ১০০ থেকে কম, সুতরাং নো টেনশন! চতুর্থ কারন, নেপালিরা আমাদের চেয়ে গরিব হয়েও অনেক সুখে আছে, কেন সেটা জানতে সেখানে ঘুরে দেখে আসা ভালো। আমি শিওর তাদের থেকে অনেক ভালো কিছু এনে আমাদের জীবনে প্রয়োগ করা যাবে।

আর ভুমিকা না বাড়াই, সরাসরি কাজের কথায়,

খ। কোন সিজনে যাবেন?

১। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী-হাই পিক টাইম, প্রচুর ট্যুরিস্ট থাকে এ সময়ে। পুরা নেপাল প্রচন্ড ব্যাস্ত থাকে, সব কিছুর খরচও কিছুটা বেশি পরে (১৫-২৫%)। তবে এ সময় এত মানুষ যাবার কারনও আছে, নেপাল তার পূর্ণরুপে সেজে থাকে এই সময়টায়। ঘন নীল মেঘমুক্ত আকাশ, ঝকঝকা হিমালয়, সমতল যায়গাতে আরামদায়ক ঠান্ডা (মানে গাব্দা জ্যাকেট পরার পর আর কি)।

২। মার্চ থেকে থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি আর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শেষ- এই সময়টা নেপাল বেশ ফাকা থাকে, সিজনের আগে বা পরের সময় এটা। খরচ বেশ কম পরে সব কিছুতে, আবহাওয়াও থাকে বেশ সুন্দর। তবে হিমালয়ের অভাবনীয় সৌন্দর্য দেখতে চাইলে এই সময়টায় মেঘের মর্জির উপর ভরসা করতে হয়।যখন তখন মেঘে ঢেকে যেতে পারে।

৩। মে থেকে অগাস্ট- আবহাওয়া মোটামুটি মেঘলা থাকে। নেপালের বৃষ্টি ভয়াবহ, শুরু হলে পাহাড়ী ঢল হয়ে প্রায়ই হাইওয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়টায় সাধারনত কোনও আইসপিক দেখা যায়না, নাগরকোট বা সারংকোটে গিয়েকিছুই দেখা যায়না মেঘের কারনে। এই সময়ে অনেক হোটেল আর দোকানপাট বন্ধ থাকে, যে সব খোলাথাকে সেগুলোতে বেশ কম দামে সব পাওয়া যায়। লম্বা সময় ধরে নেপাল থাকতে চাইলে এই সময়টা সেরা, তবে প্রথমবারের গমনেচ্ছুকদের জন্য নয়, অনেক বেশি মিস হয়ে যায়।

গ। ট্যুর প্ল্যান

এই ট্রিপে সাত দিনের কম সময় হাতে নিয়ে গেলে হিসেবে বেশি লস, আর তেমন কিছুই একটা দেখা যায়না। বেরানো হয়, থাকা হয়না। সাত দিনের ছুটি ম্যানেজ করতে পারলে শুক্র-শুক্র ট্রিপ করে ফেলতে পারবেন। প্রথমবার গমনেচ্ছুকদের জন্য তিন রকমের প্ল্যান হতে পারে আমার মতে। আর্টিকেলের পরের ভাগে কোন যায়গা কেমন তার ধারণা দিয়েছি, সেগুলো পড়ে আবার এখানে ফিরে এসে ৩ ধরনের প্ল্যানের মধ্যে কোনটা আপনার জন্য উপযোগী নিজেই ভেবে নিতে পারবেন।

প্ল্যান১

প্রথম দিন-   ত্রিভূবন এয়ারপোর্টেল্যান্ড, থামেলে রাত্রি যাপন।

দ্বিতীয় দিন-   কাঠমান্ডু থেকে পোখারা বাস, পোখারায় রাত্রি যাপন।

তৃতীয় দিন- পোখারা সারাদিন সাইট সিয়িং, পোখারায় রাত্রি যাপন।

চতুর্থ দিন-   ভোরে সারংকোটে সূর্যোদয়,সারাদিন সাইট সিয়িং, পোখারায় রাত্রি যাপন।

পঞ্চম দিন-   পোখারা থেকে কাঠমান্ডু বাস, থামেলে রাত্রি যাপন।

ষষ্ঠ দিন-     সকালে কাঠমান্ডু সাইট সিইং, দুপুরে নাগরকোট ডে-ট্রিপ- সন্ধ্যায় ফেরত, থামেলে রাত্রি যাপন।

সপ্তম দিন- ফ্লাইটের আগে টাইম থাকলে থামেলে টুকটাক কেনাকাটা/সাইট সিইং,

প্ল্যান২

প্রথম দিন-   ত্রিভূবন এয়ারপোর্টেল্যান্ড, থামেলে হোটেলে রাত্রি যাপন।

দ্বিতীয় দিন-   সকালে কাঠমান্ডু সাইট সিইং, দুপুরে নাগরকোট ডে-ট্রিপ- সন্ধ্যায় ফেরত, থামেলে রাত্রি যাপন।

তৃতীয় দিন- কাঠমান্ডু থেকে পোখারা বাস, পোখারায় রাত্রি যাপন।

চতুর্থ দিন-   ভোরে সারংকোটে সূর্যোদয়,সারাদিন সাইট সিয়িং, পোখারায় রাত্রিযাপন।

পঞ্চম দিন-   পোখারা সারাদিন সাইট সিয়িং, পোখারায় রাত্রি যাপন।

ষষ্ঠ দিন-     পোখারা থেকে কাঠমান্ডু বাস, থামেলে রাত্রি যাপন।

সপ্তম দিন-   ফ্লাইটের আগে টাইম থাকলে থামেলে টুকটাক কেনাকাটা/সাইট সিইং,

প্ল্যান৩

প্রথম দিন-   ত্রিভূবন এয়ারপোর্টেল্যান্ড, থামেলে হোটেলে রাত্রি যাপন।

দ্বিতীয় দিন-   কাঠমান্ডু থেকে পোখারা বাস, পোখারায় রাত্রি যাপন।

তৃতীয় দিন- ভোরে সারংকোটে সূর্যোদয়,সারাদিন সাইট সিয়িং, পোখারায় রাত্রি যাপন।

চতুর্থ দিন-   পোখারা সারাদিন সাইট সিয়িং, পোখারায় রাত্রি যাপন।

পঞ্চম দিন-   পোখারা থেকে কাঠমান্ডু বাস, কাঠমান্ডু থেকে ট্যাক্সিতে নাগরকোট, নাগরকোটে রাত্রি যাপন,

ষষ্ঠ দিন-     নাগরকোটে মেঘের উপর পরে থাকা, নাগরকোটে রাত্রি যাপন

সপ্তম দিন-   নাগরকোট থেকে এ্যায়ারপোর্ট।

প্ল্যান ১ আর ২ মোটামুটি একই, শুধু একটায় আগে নাগরকোট বেড়িয়ে আসা তারপরপোখারা, আরেকটা আগে পোখারা তারপর নাগরকোট। প্ল্যান ১ সফল হতে হলে প্রথমদিন হোটেলে উঠেপরের দিনের বাস টিকেট করে ফেলতে হবে। কোনও কারনে টিকেট না পাওয়া গেলে (হাই পিক সিজনে হয়তো), তৃতীয় দিন ভোরের বাস ধরতে পারলেই হয়, প্ল্যান ২ এ বদলে ফেলুন, একই। আর প্ল্যান৩ হচ্ছে হাইলি রিকমেন্ডেড ফর হানিমুনারস, আর যারা মেঘের উপরে নিশ্চুপ একটা রাজ্যে চুপচাপ দুই দিন পরে থাকতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য। প্ল্যান ১ আর ২ তে নাগকোটে ডে ট্রিপ, মানে দুপুরেগিয়ে সন্ধায় ফেরত, আর প্ল্যান ৩ এ নাগরকোটে ২ রাত থাকার প্ল্যান। তার বদলে কাঠমান্ডুতে সাইট সিয়িং বিসর্জন যাবে, এতে কিছু প্রাচীন টেম্পল বা শহর দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন,তবে আমি কিন্তু তাতে রাজি!

গ। খরচ-

একলা ভ্রমনে খরচ কিছু বেশি লাগবে, দুইজন হলে বেশ পোষাবে। আর ছয়জন করে দল হলে খরচ নেমে আসবে অনেক কম, হোটেলরুম আর গাড়ি শেয়ার করে।

এ্যায়ারটিকেট- রিটার্ন টিকেট ১৭৫০০ থেকে ১৯০০০ টাকা। আগে ভাগে বুকিংদিতে পারলে বিমানে সতের হাজারের বেশি পরার কথা না (আপডেট অক্টোবর ২০১৪)। এই রূটে বিমান বাংলাদেশ এ্যারলাইন্স এর সার্ভিস বর্তমানে নির্ভরযোগ্য (আপডেট অক্টবর ২০১৪)। বিমান মাঝে মাঝে বাজে রকমের ডিলে করে, তবে তারপরও অন্য বেসরকারি এ্যায়ারলাইন্স এর চেয়ে ভালো। ২০০৮ এ জি এম জি দিয়ে ভ্রমনের স্মৃতি আমি মনে করতে চাইনা।

ঘ। ভ্রমন বিবরন-

নেপালে বিমানযাত্রার পুরো পয়সা উসুল করতে চাইলে, ঢাকায়, হজরত শাহজালাল (রঃ) বিমানবন্দর থেকে বোর্ডিং নেবার সময় বোর্ডিং অফিসারকে বলে চেষ্টা করুন বামদিকের সাড়ির সিট নিতে, তাহলে কাঠমান্ডু ল্যান্ড করার বেশকিছুক্ষন আগে থেকে মেঘের উপর দিয়ে হিমালয়ের আইসপিক দেখতে পাবেন। সে এক অপার্থিব দৃশ্য।যাত্রার প্রথমেই মনে রাখবেন, নেপালে অন-এ্যারাইভাল-ভিসা দেয়া হয়, মানে আগে থেকে ভিসা নেবার প্রয়োজন নেই (আপডেট অক্টোবর ২০১৪)। শুধু দুই কপি ছবি অবশ্যই পকেটে রাখবেন। নয়তো কাঠমান্ডু ত্রিভুবন এ্যারপোর্টে ইমিগ্রেশনের আগে বেশ ভালো টাকা খরচ করে, দাত কিড়মিড় করে দুই কপি ছবি তুলতে হবে। একই বছরে দ্বিতীয়বার ভ্রমনার্থীদের জন্য ভিসা ফি প্রযোজ্য(১৫ দিন ২৫ ডলার, ৩০ দিন ৫০ ডলার, আপডেট অক্টোবর ২০১৪)। এ্যারপোর্টের ইমিগ্রেশনের পাশেই মানি এক্সচেঞ্জে কিছু ডলার ভাঙ্গিয়ে নেপালি রুপি নিয়ে নিন, মনে রাখবেন এখানে যত কম ভাঙ্গাতে পারেন তত ভালো, কারন এদের রেট খুব বাজে হয়। বাইরে এক ডলারে ৯৭ নেপালি রুপি(আপডেট অক্টোবর ২০১৪) পাবেন।

এ্যারপোর্টে ইমিগ্রেশন পার হয়ে লাগেজ বুঝে নিয়ে বের হতেই সামনে পরবে প্রি-পেইড ট্যাক্সি। ৭০০রুপি ভাড়া থামেল পর্যন্ত। এ ছাড়া কিছু আনলিস্টেড ট্যাক্সি পাবেন বাইরে, যেগুলা দামাদামি করে কিছু কম পেতে পারেন হয়তো, তবে তেমন লাভ হয়না।

কাঠমান্ডুতে থামেল হচ্ছে ট্যুরিস্ট হাব, এখানেই হোটেল নেয়া ভালো,কারন থামেল জায়গাটা বেশ জমজমাট। শাখারিবাজারের মত ঘিঞ্জি অলিতে গলিতে শতশত দোকান, তারউপর তলায় রেস্টুরেন্ট ও বার, তার উপর হোটেল। থামেলে মোটামুটি ভালো ধরনের বাজেট হোটেলপাওয়া যায় ৮০০ থেকে ১৮০০ রুপির মধ্যে (ডাবল বেড), বাজেট একটু ভালো হলে ৩০০০টাকায় মোটামুটিবেশ ভালো হোটেলে ডিলাক্স রুম পাওয়া যায়। দামি হোটেলেরও অভাব নেই এখানে। আমার মতে হোটেলবুক করে যাওয়ার চেয়ে রাস্তায় হেটে হোটেলের রুম ঘুরে দেখে পছন্দ হলে দামাদামি করে রুমনেয়া ভালো, এতে খরচ কম পরে এবং ভালো রুম পাওয়া যায়। হোটেল কেন বুক করে যাওয়া উচিত না এই বিষয়ে এই ব্লগের পরের অংশ "সাবধানতা" তে উল্লেখ করা হয়েছে। হোটেল নেবারসময় মাথায় রাখবেন এসি রুম নিয়ে তেমন লাভ হয়না, কারন নেপালে দিনে ১২-১৪ ঘন্টা লোডশেডিংথাকে (হ্যা, আমরা বেশ ভালো আছি)। আর যেহেতু রাতে ঘুমানো, শাওয়ার/বাথরুম আর ব্যাগ রাখা ছাড়া হোটেলের তেমন কাজ নেই, তাই আমার মতে হোটেলের বাজেট জমিয়ে সেই রুপি দিয়ে খাবারখাওয়া ভালো, গায়ে লাগবে। তবে হোটেলে ফ্রি ওয়াইফাই দেখে আপ্লুত না হয়ে আগে জেনে নেয়াভালো ফ্রি ওয়াইফাই কি শুধু লাউঞ্জে নাকি রুমেও। ঠান্ডার সিজন হলে হট ওয়াটার আছে কিনা জেনে রুম নেয়া উচিত। অনেকের হ্যান্ডশাওয়ার না থাকলে প্যারা হয়, তাদের উচিত জেনে নেয়া,কারন না থাকাটাই স্বাভাবিক।

কাঠমান্ডু-পোখারাবাস টিকেট- হোটেলে উঠার পর প্রথম কাজ করা উচিত, নিচে নেমে হোটেলের রিসেপশনে জিজ্ঞেসকরা তাদের কাছে কাঠমান্ডু-পোখারা ট্যুরিস্ট বাসের টিকেট আছে কিনা, প্রায় সব হোটেলেই টিকেটের ব্যবস্থা থাকে। না থাকলে রাস্তায় নেমে ১০ কদম হাটার আগেই একের পর ট্রাভেল এজেন্ট পাবেন, যাদের সবার কাছেই কোনও না কোনও বাসের টিকেট থাকে। নন এসি বাসের টিকেট ৬৫০-৭০০রুপি (আপডেট অক্টোবর ২০১৪), এসি বাস নিয়ে তেমন লাভ হয়না ভরপুর গরমকাল না হলে। মাথায়রাখবেন, টিকেট কাটার সময় চেষ্টা করুন কাঠমান্ডু থেকে পোখারা রুটে ডান দিকের সাড়ির সিটনিতে, আর পোখারা থেকে কাঠমান্ডু আসার সময় বাম দিকের সাড়ির সিট নিতে। ছয় ঘন্টার এই ভ্রমনেতাহলে অসংখ্য পাথরের মধ্য দিয়ে অসম্ভব সুন্দর পাহাড়ি নদীর নীল পানির স্রোত, মেঘের মধ্যেহারিয়ে যাওয়া পাহার সব দেখতে পাবেন।

থামেল-থামেল অসম্ভব স্বতঃস্ফুর্ত একটি এলাকা। পুরো সময় দেখবেন, পৃথিবীর সবদেশের মানুষ রাস্তায় ভির করে বিভিন্ন উপহারসামগ্রি, পোষাক, ইত্যাদি কিনছে। গলির পরগলি আলো ঝলমলে দোকানে নেপালের ঐতিয্যবাহি সব শো-পিস, কুকরি (গোর্খাদের চাকু), রংবেরঙ্গের কাপরচোপর, পাথরের গয়না, আরও শত জিনিসের সম্ভার। থামেল জ্বলে ওঠে সন্ধ্যা থেকে। গলিতেগলিতে শত রকমের রেস্টুরেন্ট আর বার। থামেলে মাঝারি রকমের ট্যুরিস্ট সিজনে কম পক্ষে২০টা বারে লাইভ ব্যান্ড পার্ফরম্যান্স চলতে থাকে। জ্যাজ, ব্লুজ, র‍্যাগে থেকে হার্ডরক পর্যন্ত সব ধরনের লাইভ চলতে থাকে রাত ১১টা পর্যন্ত, রাত ১১টার পর আইনগত বাধ্যবাধকতার কারনে সব বন্ধ হয়ে যায়। রাত ১১-৩০ থেকে পুরো নেপাল ভুতের শহর। হার্ডরক ফ্যানদের জন্য"পার্পল হেজ" নামে একটা বার রিকমেন্ডেড, এখানে ফাটাফাটি সব রক ব্যান্ডরাবাজায়, পরিবেশটাও বেশ জমজমাট রক পাব। শিশা খেতে খেতে শুয়ে বসে রিল্যাক্স করতে চাইলে "নামাস্তে ক্যাফে এন্ড বার" এ প্রতিদিন ভালো মানের জ্যাজ/ব্লুজ ব্যান্ড বাজায়।থামেলে সন্ধ্যা পার করার সেরা উপায় এক সন্ধায় ২/৩ টা বার/রেস্টুরেন্টে হিট করা। এখানেএ টা সেখানে সেটা খেয়ে। শেষ পর্যন্ত যেই দোকানে ভালো লাগবে, সেখানে বসে ডিনার করে নেয়া ভালো। নেপালে সব ধরনের খাওয়াই ঘুরে ঘুরে একেক দিন একেক দোকানে খাওয়া ভালো, কারন কমবেশি সবার খাবারই এক রকম হয়, দামও কাছাকাছি।

কাঠমান্ডুসাইট সিয়িং- ১ নং প্ল্যান অনুযায়ী কাঠমান্ডু শহরের আশেপাশের সাইট দেখার সময় মিলবেপোখারা থেকে ফিরে, আর ২ নং প্ল্যান অনুযায়ী পোখারার আগে। কম সময়ে দেখার মত কিছু স্থানের নাম ও বর্ননার ট্রিপএ্যাডভাইসর লিঙ্ক দিলাম। থামেল থেকে একটা ট্যাক্সি নিয়ে এই লোকেশনগুলো একবারে ঘুরে আসতে পারে, তবে দামাদামি করে নিতে ভুলবেন না।

শম্ভুনাথ টেম্পল- http://www.tripadvisor.com/Attraction_Review-g293890-d2018892-Reviews-Swayambhunath_Temple-Kathmandu_Kathmandu_Valley_Bagmati_Zone_Central_Region.html

পাতান সিটি- http://www.tripadvisor.com/Tourism-g315764-Patan_Lalitpur_Kathmandu_Valley_Bagmati_Zone_Central_Region-Vacations.html

বৌদ্ধনাথ স্টুপা- http://www.tripadvisor.com/Attraction_Review-g293890-d1963559-Reviews-Boudhanath_Stupa-Kathmandu_Kathmandu_Valley_Bagmati_Zone_Central_Region.html

কাঠমান্ডুথেকে পোখারা বাস- সব ট্যুরিস্ট বাসের একইসময়, সকাল ৮টা। সুতরাং হোটেল থেকে বের হতে হবে ভোর ৭টার মধ্যে। থামেল থেকে বাস স্ট্যান্ডখুব কাছে, তবে ভোর বেলায় ট্যাক্সি নিলে ২০০ রুপির কমে পাবেন না। কাঠমান্ডু থেকে পোখারা, ছয়ঘন্টার বাস জার্নি। শহর, মফস্বল, গ্রাম পার হয়ে খাড়া পাহাড়ের গা ঘেঁষে আঁকাবাঁকা রাস্তা, অনেক নিচে পাথুরে খরস্রোতা নদী।  বাসগুলো দুই তিন জায়গাতে থামায়, প্রকৃতিকে আওয়াজদেয়া আর খাওয়াদাওয়ার জন্য। তবে এখানের খাবার সাধারণত জঘন্য হয়, হাই হোপ না থাকাই ভালো।

পোখারাঃ

থাকার জন্য পোখারায় লেকসাইড’ই সেরা জায়গা, লেকের পারে অনেক জমজমাট একটা এক দেড় কিলোমিটার রাস্তা, দুই পাশে নানা দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট আর বার, অসম্ভব প্রানপ্রাচুর্যপূর্ন  একটা শহর।এখান থেকেই সবজায়গা চলাফেরা করা সুবিধা। লেকসাইড রোডের উপড়ের হোটেলগুলোর দাম বেশি,একটু হেঁটে গলির ভেতর ঢুকলেই ছিমছাম পরিষ্কার হোটেল, অনেক কম দামে পাওয়া যাবে। 

লেকসাইড রোডের উত্তর দিকের শেষ মাথায় যেখানেরাস্তা বেঁকে গ্যাছে, সেই পর্যন্ত ট্যুরিস্ট হাব, তাই সব সময় জমজমাট। তবে যারা পোখারায় নিরিবিলি থাকতে বা শিল্পচর্চা করতে চায়, তাদের জন্য লেকসাইড রোডের উত্তর মোড়ের বাঁকের পর থেকে অনেক গুলো হোটেল আছে, সেখানে থাকা ভালো। কারণ পোখারা লেকসাইডের এই অংশটাতে দেশ বিদেশের সব শিল্পীরা এসে পরে থাকে, রাস্তায় বসে যে যার মত গীটার বাজায়, কবিতা লিখে,ছবি আঁকে। বলা যায় হিপ্পি জোন। লেকসাইড নর্থের সেরা কয়েকটি পাবের মধ্যে ফ্রিডম ক্যাফে অসম্ভব সুন্দর, সারা সন্ধ্যা চমৎকার লাইভ মিউজিকের সাথে পার করা যায়।

(চলবে)

(আগামী লেখার সম্ভাব্য বিষয়-

১। পোখারা সাইট সি'ইং

২। এ্যাডভেঞ্চার (র‍্যাফটিং, বাঞ্জি জাম্পিং, প্যারাগ্লাইডিং, ইত্যাদি)

৩। হাওয়া বদল বা রিল্যাস্ক ট্যুর

৪। নাগরকোটে রাত্রিযাপন, দর্শনীয়, খাওয়াদাওয়া

৫। সারাংকোটে রাত্রিযাপন, দর্শনীয়, খাওয়াদাওয়া

৬। দেউরালি রাত্রিযাপন

৭। মোবাইল সিম, নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট প্যাকেজ

৯। খুব কম খরচে চমৎকার কিছু হোটেলের তথ্য ও যোগাযোগ (কাঠমান্ডু, পোখারা, নাগরকোট ও সারংকোট)

১০। নেপাল রীতিনীতি, ভদ্রতা ও রেওয়াজ সম্পর্কে সাধারণ ধারনা)

১১। কেনাকাটা

১২। সতর্কতা


(ডিসক্লেইমারঃ প্রথম প্যারাগ্রাফ)