বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

বিশ্ব শান্তির প্রসারে দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি সামিট অনুষ্ঠিত আত্মহত্যা নয়, জীবনকে উপভোগ করুন চবি ক্যাম্পাসে উজ্জ্বল রুমান কনভারশন ডিসঅর্ডার: দরকার সচেতনতা   ইউএনও’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: দৃষ্টিনন্দন বিল পরিস্কার করলেন নিজেই যুদ্ধকালীন সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ পেলেন রবিউল হাসান ম্যানেজমেন্ট অ্যপ্রোচ ও ভিশন: মালিক-এর চাওয়া ও কর্মী’র প্রতিক্রিয়া দেখে এলাম এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্যাকটাস নার্সারি ওয়াইএসএসই-এর “রেজোন্যান্স-২.১ অনুষ্ঠিত নোবিপ্রবিতে ভর্তি আবেদন ১৬ই অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ    তরুণ প্রজন্মই পারে সবুজ পৃথিবী গড়তে উচ্চশিক্ষা ভাবনা, ক্যারিয়ার প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণ ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিন কোরিয়ায়  শান্তি সামিট শুরু অনলাইনে হয়রানির শিকার হলে যা করবেন

যুবসমাজকে এগিয়ে নিতে পারে নিরাপদ পরিবেশ

সফিউল আযম

যুব সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপদ পরিসর (Safe Spaces for Youth)- এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক যুব দিবস। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে প্রতিবছর ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, সামাজিক জীবনে যুবক ও যুব মহিলাদের সব কর্মে অংশগ্রহণ, উন্নয়ন ও অংশগ্রহণ এবং শান্তির ক্ষেত্রে মৌলিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, যুবসমাজের অবস্থার পরিবর্তনের বিষয়ে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ক্রমাগত সংলাপ ও পরামর্শ গ্রহণের বিষয়টি মাথায় রেখে ১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৯৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২০০০ সাল ও পরবর্তী সময়ের জন্য বিশ্ব যুব কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়। এবারের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে চারটি নিরাপদ পরিসর বা স্পেস বা উপাদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সেগুলো হল- ডিজিটাল স্পেস, পলিসি স্পেস, সিভিল স্পেস এবং ফিজিক্যাল স্পেস।


বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচ কোটিরও বেশি যুবক রয়েছে। ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণ ধরলে শিশু-কিশোর-তরুণের সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি। তরুণ, শিশু, কিশোর মিলে দেশের এই ৭০ শতাংশ মানুষকে নৈতিক, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে তাদের জন্য নিরাপদ স্থান তৈরি করা সুদূরপরাহত থেকে যাবে।

তরুণদের এগিয়ে নিতে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য সহজ বিনিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা দরকার। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে যুবসমাজের দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, ছেলেমেয়ের বৈষম্য দূর করা একান্ত আবশ্যক। এসব কাজ করতে পারলে তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর রূপকল্প ২০২১ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে, যা তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজেদের টিকে থাকার এক অবারিত সুযোগ করে দিয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্ম বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিগত সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সফটওয়্যার কারখানা বা হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠায় সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, সেগুলো আরও ত্বরান্বিত করতে হবে এবং নতুন নতুন হাইটেক পার্ক স্থাপন করতে হবে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে সমস্যা হিসেবে না দেখে একে শক্তিতে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাই তরুণদের শক্তি যাতে দ্রুত উৎপাদনশীল খাতে ধাবিত হয়, সেই লক্ষ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কারিগরি শিক্ষার প্রতি অধিক নজর দিতে হবে। আশার কথা, দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। তাদের নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এটাকে ধরে রাখতে হবে। উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। বলা হয়ে থাকে, তাদের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। আবার তাদের বেশিরভাগই অর্থাৎ ১২ থেকে ১৩ লাখ কাজের সুযোগ পেলেও বাকিরা বেকার থাকছে। এভাবেই বেড়ে চলেছে বেকারের হার। বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবার সুযোগ এসেছে।


তরুণ প্রজন্মকে মানবসম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে নানামুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে। বিদেশে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রেও দিতে হবে বিশেষ গুরুত্ব। সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারলে ভবিষ্যতে আমাদের তরুণরা বিশ্ব দাবিয়ে বেড়াবে।

বিভিন্ন দেশ নানা ক্ষেত্রে গবেষণা, সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে তরুণদের সম্পৃক্ত করে, যা জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে সাফল্যের পথ তৈরি করে। আমাদের দেশে তরুণদের বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্তকরণের বিষয়টি সীমিত আকারে শুরু হলেও আমরা আশান্বিত হই। এ বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে তরুণদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজে অংশ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটা বিরাট শূন্যতার মাঝে পড়বে। তাই তরুণদের সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ অবারিত করতে হবে। মানুষের জন্য, মানবতার জন্য কাজ করার এবং মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে সুযোগ করে দিতে হবে তাদের। এর ফলে ভবিষ্যতে একটি কল্যাণমুখী প্রজন্ম তৈরি হবে।

যুবকদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যা হবে তাদের আগ্রহ ও স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তারা তাদের মতামত দিতে পারবে নিঃসংকোচে। যুব সম্প্রদায়ের অধিকার বাস্তবায়ন এবং নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি যদি সঠিকভাবে নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সুশাসন প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক- সব ক্ষেত্রেই নিরাপদ ও নিশ্চিত পরিসর নিশ্চিতকরণ একটি সমৃদ্ধ যুবসমাজ তৈরির পথ সুগম করবে নিঃসন্দেহে।

সফিউল আযম : এডিটর ইন চিফ, ইয়ুথ জার্নাল

m.safiulayam@yahoo.com