মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

ভিন্ন রঙে আঁকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আত্মহত্যা সমাধান নয় যেভাবে প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখতে চাই অত:পর, কোন একদিন...... দ্রুত ওজন কমানোর কিছু কৌশল জাপানের সুমিতমো বৃত্তি পেল ঢাবির ৪০ শিক্ষার্থী চীন যাচ্ছে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) বাগেরহাটের ১০ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ও তরুণ প্রজন্ম জাপান সরকার দিচ্ছে মেক্সট স্কলারশিপ উচ্চ মাধ্যমিকের পর ক্যারিয়ার পরিকল্পনা মাসের খরচের টাকা বাঁচিয়ে ব্যতিক্রম লাইব্রেরি চালান রাজশাহীর বদর উদ্দিন ঢাকায় প্রথম পিআর অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমস সামিট ২৬ অক্টোবর রাজনীতি-ক্ষমতা ও তারুণ্য গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও তারুণ্য

মাশরাফি: এক উদ্দীপনার নাম

লুৎফর রহমান হিমেল

''চোখে চোখ রেখে খেলে যাবি। ভয় পাবি না । প্রতিপক্ষ অপরাজেয় কিছু না। ''

এরকম অভয় মন্ত্র এর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কোনো অধিনায়ক দিয়েছেন কিনা জানা নেই। তবে এটা জানি, আপনিই সেই অধিনায়ক। আপনিই সেই অধিনায়ক যে কিনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগেই হেরে বসে না।

গত আঠারো বছর ধরে যে দেশের লাল-সবুজ পতাকাটার ভার বহন করে আপনি এতদূর নিয়ে গেছেন, যে জার্সিটাকে গায়ে জড়িয়ে বিশ্বের সব বাঘা বাঘা দলের বুকে কাঁপন ধরিয়েছেন... সেই দেশের পাশে, সেই জার্সির পাশে আপনাকে সেরা অভিভাবকই মনে হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আপনি যা দিয়েছেন, তার পরিসংখ্যান দিয়ে আপনাকে বিচার করলেও আপনি শীর্ষে থাকবেন। কিন্তু সেই পরিসংখ্যানের চেয়েও আপনি বেশি কিছু। এ বিশ্বকাপটি আপনার ছিলো না। বৃষ্টি-প্রকৃতির বাগড়ার জন্য ত একটি ম্যাচ খেলাই গেলো না। ভাগ্যের নির্মমতা ত পাশ কাটানো যায় না।

আমাদের এই ফুটবলের দেশে ক্রিকেট নিয়ে তেমন ভাবনাই ছিলো না। সম্মানজনক হার নিয়েই ভাবনা থাকতো তখন। ম্যাচ শেষে বিজয়ী প্রতিপক্ষের সাথে ছবি উঠাতে পারলেই অনেকে গর্ব করতো। আপনিই সেটা ঘুরিয়ে দিয়েছেন। সম্মানজনক পরাজয়ের সুর পাল্টে দিয়ে জয়ের জন্য আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার মন্ত্র দিয়েছেন আপনি। আপনার আগে এরকম আগ্রাসী ক্রিকেটার আমি দ্বিতীয় কাউকে দেখিনি।

এর ফলও আমরা পেয়েছিলাম। তখন থেকেই বিশ্বের নামজাদা দলগুলোও সমীহ করতে শুরু করলো আমাদের। আমাদের ব্যাটিং-বোলিং লাইনআপ নিয়েও বিশ্বজোড়া সুনাম এখন। এই দল এখন ৩০০ রানের মাইল ফলক ছাড়িয়ে যায় অবলীলায়। আমি আপনার সময়ের একজন বাংলাদেশের ক্রিকেট দর্শক হিসেবে গর্বিত।

এ দেশের ক্রিকেটেরও অন্ধকার যুগ গেছে। টাকার কাছে বিক্রি হয়েছে ক্রিকেট। আপনাকে সেই অন্ধগলিতে পাওয়া যায়নি কখনো। ক্রিকেটের পেছনেই ছুটেছেন সবসময়, টাকা আপনার কাছে বড় হয়ে আসেনি। এখান থেকেও আপনার ‘‘ব্যক্তি মাশরাফি’’ চরিত্রটি পরিষ্কার হওয়া যায়। ক্রিকেটার মাশরাফি, অধিনায়ক মাশরাফি, মানুষ মাশরাফি—এর প্রত্যেকটিতেই আপনি পূর্ণ নম্বর পাওয়া একজন মানুষ। বিস্তারিত লিখে লেখা বড় করবার প্রয়োজনও নেই।

অসংখ্য মানুষের সমালোচনা দেখি আপনাকে নিয়ে। যে কোনো ক্রিকেটারের এক টুর্নামেন্ট খারাপ যেতেই পারে, মন্দ দিনের সমালোচনার জবাব হয়ত আপনার পারফরম্যন্স-ই দিতে পারতো। কিন্তু সেই জবাব হয়তো এই শেষ বেলায় আপনার দেওয়া হবে না।

কষ্ট পাবেন না। হয়তো অবসরে যাবেন খুব শিগগিরই। কিন্তু তারপরও দলের পেছনে যেনো আপনার সার্ভিস থাকে, কোচ হিসেবে, না হয় অন্য কোনো পরিচয়ে। আপনার মতো মেধা ও উদ্দীপনা সৃষ্টিকারক ক্রিকেটার বাংলাদেশ দলের সাথে যতোদিন থাকবে, বিশ্বের কোনো দলকেই ভয় করবে না এই টাইগাররা, এই বিশ্বাসটুকু আছে আমাদের।

যেভাবে আগাচ্ছে দল, একদিন বাংলাদেশের হাতে উঠবে প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফিটি, সেদিন আর দূরে নয়। কিন্তু সেদিন হয়তো আপনি খেলোয়াড় থাকবেন না, অধিনায়ক থাকবেন না; তবে আমরা জানবো, সেদিনের সেই অর্জনের পথ তৈরি করে দেওয়ার পেছনের একজন আপনি।

স্বপ্ন পূরণ হবেই, আজ না হোক কাল তো বটেই!

লেখক: সম্পাদক-প্রকাশক, প্রিয়দেশ ডটকম, সাপ্তাহিক আমার প্রিয়দেশ।