মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

ভিন্ন রঙে আঁকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আত্মহত্যা সমাধান নয় যেভাবে প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখতে চাই অত:পর, কোন একদিন...... দ্রুত ওজন কমানোর কিছু কৌশল জাপানের সুমিতমো বৃত্তি পেল ঢাবির ৪০ শিক্ষার্থী চীন যাচ্ছে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) বাগেরহাটের ১০ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ও তরুণ প্রজন্ম জাপান সরকার দিচ্ছে মেক্সট স্কলারশিপ উচ্চ মাধ্যমিকের পর ক্যারিয়ার পরিকল্পনা মাসের খরচের টাকা বাঁচিয়ে ব্যতিক্রম লাইব্রেরি চালান রাজশাহীর বদর উদ্দিন ঢাকায় প্রথম পিআর অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমস সামিট ২৬ অক্টোবর রাজনীতি-ক্ষমতা ও তারুণ্য গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও তারুণ্য

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির যাবতীয় কার্যক্রম এখন  মোবাইল এ্যাপস "এডমিশন এসিস্ট্যান্ট" এ

রুমান হাফিজ

এরই মধ্যে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে সব শিক্ষার্থী চায় নিজের পছন্দ কিংবা সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে। কিন্তু এই সময় শুধু পড়ালেখা নিয়েই যে চিন্তার মধ্যে থাকতে হয় তা নয়, কবে ভর্তির ফর্ম পূরণের লাস্ট ডেট, কবে টাকা জমা দেয়ার শেষ তারিখ, কখন এডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে, কবে ভর্তি পরীক্ষা ইত্যাদি নানা তথ্য মাথায় রাখাও চাট্টিখানি কথা নয়। তার উপর দেশের একেক প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হলে, কি কি পড়তে হবে, কি থাকবে সিলেবাসে, ভর্তির যোগ্যতা কি, কিভাবেই বা দূরের ক্যাম্পাসে যাতায়াত করা যাবে,কোথায় থাকবে তা নিয়েও চলে কত চিন্তা, দ্বিধা, বিভ্রান্তি। এসবের ঝক্কিঝামেলায় অনেক বেগ পোহাতে হয় অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের।

ছাত্রছাত্রীদের এসব সমস্যা দূর করতে ভর্তিযোদ্ধাদের এডমিশনের এই সময়টায় সাহায্য করতেই বানানো হয়েছে "এডমিশন এসিস্ট্যান্ট" নামে বিশেষ একটি অ্যাপস। 
অ্যাপসটি তৈরী করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের "ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং" ডিপার্টমেন্টের কয়েকজন শিক্ষার্থী। সাইন্সশপবিডি নামক অনলাইন শপের প্রতিষ্ঠাতা ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে অ্যাপসটির কাজ শুরু হয়।অ্যাপসটির সার্ভার ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজাইনিংয়ে কাজ করেন একই বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ জাওয়াদ খান, মাহবুবুর রহমান এবং শোভন মাহমুদ। ডাটা এনালাইসিসে কাজ করেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাফায়াত সিদ্দিকী।

শুরুর দিকটা জানতে চাইলে "এডমিশন এসিস্ট্যান্ট" অ্যাপসের টিম প্রধান আব্দুল্লাহ আল মামুন যেমনটা বলছিলেন, "২০১৪ সালে যখন আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন দেই,তখন অনেকগুলো প্রব্লেম ফেইস করতে হয়েছে আমাকে। তখন থেকেই আমার চিন্তা জন্ম নেয় কিভাবে এই প্রব্লেমগুলো সমাধান করা যায়। তারপর তো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। পড়ালেখার চাপে জন্ম নেয়া চিন্তার বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছিল না। ২০১৮ সালে এসে সিদ্ধান্ত নিলাম, যে করেই হোক আমাকে এর সমাধান করতেই হবে। তখন ডিপার্টমেন্টের বন্ধুদের সাথে কথা বললাম।সবার আন্তরিকতা আর যথেষ্ট সাড়া পেয়ে কাজে নেমে পড়লাম।পুরো তিন মাস একটানা কাজ করে অ্যাপসটি এখন প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করেছি এই সেপ্টেম্বর মাসে। এখনো অ্যাপসটিকে আরো কার্যকর ও নির্ভুল করার চেষ্টা করছি। এখন প্রায় ৩০ টির মতো ফিচার আছে,শিগগির আরো অনেকগুলো ফিচার সংযুক্ত করার চেষ্টা চলছে।"


অ্যাপসটির লক্ষ্য এবং ব্যবহার নিয়ে বলছিলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের জন্য সাইবার ক্যাফেতে দৌড়াদৌড়ি করার ঝামেলা,টাকা জমা দিতে দোকানে দোকানে খোঁজ করা এসব নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরী। ইতোমধ্যে  অ্যাপসটির ব্যবহারকারী প্রায় হাজার ছাড়িয়ে গেছে।অনেক ফিডব্যাক পাচ্ছি। অ্যাপসটি আশা করি শিক্ষার্থীদের বিশ্বস্ততা,ভরসা হিসেবে জায়গা পাবে।
অ্যাপসটি ব্যবহারের জন্য প্রথমেই ব্যবহারকারীর  ফোন নম্বর, মেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। আর তারপরেই দেখতে পারবেন অ্যাপসের বিশেষ বিশেষ ফিচারগুলো। সাইবার ক্যাফেতে দৌড়াদৌড়ি না করে খুব সহজেই এই অ্যাপস ব্যবহার করেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি  রয়েছে বিকাশ/রকেটের মাধ্যমে এডমিশন ফর্মের ফি প্রদান করার সুযোগ।"
.
তাছাড়া আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান সেই ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেখানে ক্লিক করলেই জেনে যাবেন আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যাবতীয় তথ্য। প্রত্যেকটা পাবলিক  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সার্কুলার দেয়া আছে অ্যাপসটিতে। সার্কুলার বোঝার সুবিধার্থে সহজ ফরম্যাটে নিয়ে আসা হয়েছে এখানে। পাশাপাশি প্রতিটা সার্কুলার প্রকাশের সাথে সাথেই নোটিফিকেশনের মাধ্যমে অ্যাপস ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেয়া হবে। তাই এখন বিভিন্ন ভার্সিটির ওয়েবসাইট কিংবা সোশাল মিডিয়াগুলোতে সার্কুলার খোঁজাখুঁজি করে সময় নষ্ট করতে হবে না। অ্যাপসটি ব্যবহারের মাধ্যমে কোন ভার্সিটির আবেদন কখন শুরু হবে তা একসাথে লিস্ট করে দেয়া আছে। তাছাড়া আপনি দেখতে পাবেন কোন ভার্সিটির আবেদনের শেষ তারিখ কবে। আর কত দিন বাকি আছে।
সবচেয়ে মজার এবং ভালো দিকটা হচ্ছে, যাদের এন্ড্রয়েড ফোন নেই চাইলে আপনি তাকেও হেল্প করতে পারবেন।কারণ এক ফোন দিয়ে একাধিক একাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। কিভাবে?  আপনার মোবাইল দিয়ে যার জন্য একাউন্ট করবেন শুধু তার ফোন নম্বর ব্যবহার করে আরেকটি একাউন্ট খুলে এসএমএস সার্ভিস অন করে দিলেই তার কাছেও ভর্তি পরীক্ষার সকল ইনফরমেশন পৌঁছে যাবে এসএমএসের মাধ্যমে!

আর যখন যে ভার্সিটি এডমিড কার্ড, সিট প্ল্যান, রেজাল্ট পাবলিশ হবে তা সাথে সাথেই দেখতে পাবেন এবং এক ক্লিকেই নিজের তথ্যাবলী জেনে নিতে পারবেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু লিখে রাখার জন্য রয়েছে “নোটপ্যাড”,যা গুগল ড্রাইভ এর মতো ফোন নষ্ট কিংবা হারিয়ে গেলেও তা ঠিকঠাকভাবেই পাবেন পুনরায় অ্যাপসটিতে লগইন এর মাধ্যমে।  


বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে অচেনা শহরে কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এসব সমস্যাদির জন্যেও রয়েছে  সমাধান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আছে “ম্যাপিং” সুবিধা। এতে করে আপনার শহর হতে অনায়াসে বিভিন্ন ভার্সিটি চলে যেতে পারবেন কারো সাহায্য ছাড়াই। আর রয়েছে বাস, ট্রেন টিকেট বুকিং করার সুবিধা। এমনকি রয়েছে হোটেল বুকিং করার সুবিধাও!


অবাক করার মতো তথ্য হচ্ছে, অ্যাপসটি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের একসেস টু ইনফরমেশন অধীনে জাতীয় পর্যায়ে কম্পিটিশনের জন্য মনোনীত হয়েছে।


অ্যাপসটির ডাটা এনালাইসিসের দায়িত্বে থাকা ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সাফায়াত সিদ্দিকী বলেন "বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আগের এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করছি এই সময়টাতে ভর্তি তথ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে যেন মূল্যবান সময়ের অপচয় না হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের জন্য সাইবার ক্যাফেতে দৌড়াদৌড়ি করার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরী হওয়া এই অ্যাপসটা আশা করি স্টুডেন্টদের সময় ও অর্থ দুইই সাশ্রয় করবে।"

অ্যাপস এবং নিজেদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যেমনটা বলছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, "আমরা গ্রাহকের পছন্দ এবং মতামতকেই প্রাধান্য দিয়ে প্রতিনিয়ত অ্যাপসটি গ্রাহকের মনের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করছি।
সবচেয়ে বড় দায়িত্বটা হচ্ছে,সঠিকভাবে অ্যাপসটির 
ব্যবহার এবং সুবিধাগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো। অ্যাপস এর  কার্যকারিতা এবং সহায়ক নতুনত্ব কিভাবে আরো বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে আরো কাজ করা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট এবং ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এই অ্যাপসের আওতায় নিয়ে আসা। তাছাড়া দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা আছে।আমাদের অ্যাপসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযোদ্ধাদের নানারকম সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবং সঠিক সময়ে সঠিকভাবে ভর্তিযোদ্ধাদের জন্য সহায়ক গাইডলাইন যেনো হতে পারে সেটাই প্রত্যাশা।আমরা স্বপ্ন দেখি, এই অ্যাপসটি একদিন লাখো ভর্তি প্রত্যাশীর ভরসার প্রতীক হয়ে উঠবে।সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যের অভাবে উচ্চ শিক্ষা হতে বঞ্চিত হবে না দেশের একটি শিক্ষার্থীও।"
.
প্লে-স্টোর লিংকঃ https://play.google.com/store/ apps/details?id=com.esp. cattronics.vaa
প্লে স্টোর থেকে অ্যাপস টি ইন্সটল দিলে ফ্রিতে পাচ্ছো ৩ টি বিশ্ববিদ্যালয় এর সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মোবাইল ফোনে SMS এর মাধ্যমে, থাকছে ঘরে বসে নির্ভেজাল ভার্সিটিতে এপ্লাই এর সুযোগ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সংক্রান্ত ৩০ ধরনের ইনফরমেশন এবং সার্ভিস পেতে প্লে স্টোর থেকে নামিয়ে নাও অ্যাপসটি। প্লে স্টোরে Admission Assistant লিখে সার্চ দিলে সবার উপরেই পাবে অ্যাপস টি।