মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে না শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার চাপ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে ফেলেছে সাজগোজের রিমি নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের প্রত্যাশা কীভাবে নিবেন একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও স্মার্ট ডিসিশন ফ্রেশাররা কেন চাকরি পায়না ইন্টারভিউ নেয়ার সঠিক ও জরুরি কৌশল ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত মিটিং করার আগে ভাবুন তারুণ্যের উৎসব বাংলাদেশ ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম-২০১৮ অনুষ্ঠিত হবে ৩০শে অক্টোবর ভয়ংকর আগস্ট ভালো হতে চেয়েছিলাম (ছোটগল্প) এইচআর নিয়ে একডজন ভুল ধারনা এবং উত্তর বিশ্ব শান্তির প্রসারে দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি সামিট অনুষ্ঠিত আত্মহত্যা নয়, জীবনকে উপভোগ করুন

ফ্রেশাররা কেন চাকরি পায়না

মো. ওয়ালিদুর রহমান বিদ্যুৎ

একজন দায়বদ্ধ সোস্যাল এ্যানিমেল হিসেবে আমি প্রায়ই অনলাইনে (ফেসবুক/মেসেঞ্জার/লিংকডইন) চাকরীর বিজ্ঞাপন দিই, ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন লেখা লিখি। বিভিন্ন রকম পাঠক তো থাকেই। তাদের মধ্যে কিছু মানুষ বিশেষত চাকরী প্রার্থী ফ্রেশাররা প্রায়ই অভিযোগ/অনুযোগ করেন, আমরা এমপ্লয়াররা/সিনিয়র প্রোফেশনালরা কেন ফ্রেশারদের জন্য কিছুই করি না, কেন আমরা এত এত জব ওপেনিং দিই যা শুধুই অভিজ্ঞদের জন্য? কেন আমরা খালি অভিজ্ঞতা অভিজ্ঞতা করি? নতুনদের চান্স না দিলে তাদের অভিজ্ঞতা আসবে কী করে-ইত্যাদি। আমি প্রায় সবসময়ই এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হই। উত্তর দেবার, লজিক দেবার চেষ্টা করি।

এবার চিন্তুা করলাম, সবগুলো যুক্তিকে একত্র করে ফ্রেশারদের জন্য লিখি। মনে রাখবেন, লেখাটি শুধুমাত্র ফ্রেশারদের অনুযোগের উত্তর। এমপ্লয়ার বা সিনিয়র প্রোফেশনালদের দোষ আজকে বলব না। কারন সেগুলো আপনারা প্রচুর বলেছেন। তাই নতুন করে ওগুলোর আলোচনা করব না। আজ বলব, বিপরীত দিকটা। তাতে হয়তো তাদের চাকরীর বাজার প্রসারিত হবে না। কিন্তু তাদের ভুল ধারনা ভাঙবে, কিছুটা হলেও তাদের হতাশা ও উদ্বেগটা কমবে। এবং অবশ্যই নিয়োগদাতা ও নিয়োগপ্রার্থীদের মধ্যেকার দূরত্ব কিছুটা হলেও কমবে।

আসুন দেখি, কয়েকটি প্রশ্নের জবাব খুঁজি।

১.কেন এমপ্লয়াররা ফ্রেশারদের জব দিতে চান না?
উত্তর: অনেক কারন আছে ফ্রেশারদের জব দিতে না চাইবার পেছনে। যেমন:-

ক.আমি নিজে এর ভুক্তভোগী। চাকরী দিয়ে, শিখিয়ে পড়িয়ে যখন রেডি করি, তারা ১ দিনের নোটিশ দিয়ে চাকরী ছেড়ে চলে যান। আমার নিজের সাহায্য করা প্রায় সব ফ্রেশারের ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা এমন। গত মাসেই একজন ফ্রেশার যিনি ৯ মাস জব করেছেন, তিনি এইচআরে গিয়ে বলেছেন, তার বাবা মুমূর্ষূ অবস্থা। দ্রুত ইন্ডিয়া নিতে হবে। তিনি কাল হতে আর আসবেন না। কোম্পানী তাকে ১ মাস চিকিৎসা করে জয়েন করতে বলল। তিনি তাও পারবেন না। অগত্যা তাকে ছেড়ে দেয়া হল। ৩ দিন পরে জানা গেল, সব ভুয়া। তিনি আরেকটা কোম্পানীতে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেশি বেতনের জন্য এই নাটক করেছেন। আপনি বলবেন, আপনি এমন করবেন না। কিন্তু বিগত ৫ বছরের অভিজ্ঞতা একই। তাহলে কীভাবে এমপ্লয়ার আস্থা রাখবেন নতুন করে?

খ.অতিরিক্ত আশা। ফ্রেশার যদি এই আক্রার বাজারে ২৫ হাজার টাকা স্টার্টিং স্যালারি আর প্রথম দুই বছরে স্যালারী রেঞ্জ ৮০ হাজারে যেতে হবে-দাবী করেন, কী করতে পারি? সব চাক্ষুস অভিজ্ঞতা বলছি।

গ.একজন এমপ্লয়ার এরপরেও সাহস করে, সামাজিক দায়বদ্ধতা হতে ফ্রেশার নিয়োগ করলেন। প্রার্থী ১ বছর পরেই কাজ শিখে এসে সেই এমপ্লয়ারকে যখন বলেন, আমাকে অমুক প্রতিষ্ঠান ৫০ হাজারে অফার করেছে। আমাকে ৫০ হাজার স্যালারী না দিলে থাকব না-তখন স্বাভাবিকভাবেই ফ্রেশার নিয়োগে উৎসাহ হারাবেন নিয়োগদাতা। আপনি বলবেন, সবাই এক না। একের দোষে অন্যরা কেন ভুগবে? এখন নিয়োগদাতাতো আপনার মনের স্ক্যান করে দেখতে পারবেন না। আর এই কুঅভ্যাসটি যখন মাত্রাছাড়া পরিমানে হয়, তখন সেটাকেই তো ট্রেন্ড হিসেবে দেখা হবে-তাই না?

ঘ.আমি নিজে দেখেছি, মাসের বেতন পেয়ে কোনোরকম রিজাইন না দিয়ে ফ্রেশার এন্ট্রি চাকরীজীবিরা অন্য জবে জয়েন করতে। আপনি বলবেন, আপনারা এমন কিছু নিশ্চই করেন যে জন্য তারা চলে যেতে বাধ্য হয়। তো ভাই, আপনি সবরকম কথাই যদি নিজের ফেভারে চান, তবে কী করে হবে? যত অসুবিধা হোক, আপনি রিজাইন দিয়ে যেতে পারবেন না-এমন গজব কি নাজিল হয়েছে দেশে?

ঙ.সবচেয়ে মারাত্মক কারন হল, যোগ্যতা। বিগত প্রায় ৭/৮ বছর ধরে দেশের শিক্ষার মান ভয়ানক রকমভাবে রসাতলে গেছে। শিক্ষার মূল লক্ষ্য (মানুষকে মানুষ করা) তো বহু আগেই মারা গেছে। বাকি ছিল অন্তত একাডেমিক শিক্ষা হতে অন্তত কলম পিষে খাবার মতো মানুষ সৃষ্টি করা (কোনো রকম মানবিক গুনাবলি না থাকলেও চলত)। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর সেটাও পারছে না বা করছে না। একাডেমিক পরীক্ষা পাশ করে বের হয়ে তারা সামান্য কলম ধরার মতো অবস্থায়ও নেই। (অবশ্যই সবাই না। মেধাবী মানুষ এখনো আছে।) আমি বলছি, জেনারেল সিচুয়েশনের কথা। আমার একাধিক লেখায় আমি উদাহরনসহ বলেছি, কী ভয়ঙ্কর অযোগ্য লোকজন আমাদের কাছে আসছে ইন্টারভিউতে আর আমরা লোকের ক্রাইসিসে ভুগছি। চাকরী নিয়ে ঘুরছি, কিন্তু লোক পাচ্ছি না। সেগুলো আর রিপিট করছি না। সুতরাং, এখন যারা ফ্রেশার হিসেবে বের হচ্ছেন, তাদের প্রতি ইন জেনারেল, এমপ্লয়ারদের এলার্জি, অনাগ্রহ তো স্বাভাবিক, তাই না?

তাই বলে, ফ্রেশার জব কি হচ্ছে না দেশে?

সবার আগে আপনি আপনার ভুল ধারনা হতে বাইরে বেরিয়ে আসুন। “ফ্রেশারদের জব দিই না” বা ”দেয় না” এটি খুব বায়াজড ও একপেশে একটি মিথ্যা। লজিক ‍দিয়ে বোঝাই। প্রতিবছর দেশে নতুন করে প্রায় ৭ লক্ষ গ্রাজুয়েট চাকরীর বাজারে প্রবেশ করে। সরকারী চাকরী বছরে গড়ে সৃষ্টি হয় ২ থেকে ৩ হাজার (আনুমানিক)। তাহলে বাকি ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার গ্রাজুয়েট বেসরকারী চাকরীর উমেদার হয়। (খুব সামান্য কিছু ছেলেমেয়ে বিদেশে পাড়ি জমায় বা নিজের ব্যবসা শুরু করে)। তো ধরে নিলাম, দেশের কোনো নিয়োগকর্তা একজন ফ্রেশারকেও জব দেয় না। তাহলে প্রতিবছর দেশে ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার বেকার সৃষ্টি হত। আর তাতে করে বেকারের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে কয়েক কোটি হয়ে যেত না, আর সেটা দিনকে দিন বিশাল হত না? কিন্তু জানেন কি, দেশে গ্রাজুয়েট বেকার ২৬ লক্ষ। তার মানে গড়ে ৪ বছরের গ্রাজুয়েট ফ্রেশারের মোট সংখ্যার সমান দেশে বেকার আছে। তাহলে স্বাধীনতার পর হতে বিগত ৪৬ বছরে বা অন্তত বিগত ২০ বছরের মধ্যে মাত্র ৪ বছরের সৃষ্ট গ্রাজুয়েটদের বেকার থাকার হিসাব মিলল। বাকি ১৬ বছরের গ্রাজুয়েটরা তবে কোথায় গেল? তারাও যদি বেকার থাকত, তাহলেই তো দেশে বেকারের সংখ্যা দাড়াত ১৬ বছর X ৭ লক্ষ = ১ কোটি ৩২ লাখ। তা না হয়ে সেটা কেন ২৬ লক্ষ আছে? আছে, কারন ফ্রেশারদের জব হচ্ছে। সবাই বেকার থাকছে না। তার মানে ফ্রেশারদেরও জব হচ্ছে। হয়তো সবার নয়, তবে হচ্ছে।

ফ্রেশারদের জব কেন হচ্ছে না? কেন আমাদের অধিকাংশ বিজ্ঞাপনে আমরা অভিজ্ঞ লোক চাই? কেন নতুনদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ আমরা দিতে পারি না?

আপনাকে মানতেই হবে, যেকারনেই হোক, দেশে চাকরীর বাজারের মার্জিনাল গ্রোথতো হচ্ছেই না, বরং দিন দিন আনুপাতিক হারে সংকুচিত হচ্ছে। এবং আমার ও আরো অনেক প্রাজ্ঞ ক্যারিয়ার এ্যানালাইজারদের ধারনা, সেটা আরো সংকুচিত হয়ে যাবে। তো এমন বাস্তবতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন জব কম সৃষ্টি হচ্ছে। এর একটি ডোমিনো এফেক্ট হচ্ছে জব মার্কেটে। নতুন জব সৃষ্টি হচ্ছে না>পুরোনোরা জব ছাড়ছেন কম>পজিশন খালি হচ্ছে কম। তারপরে আবার যেগুলো খালি হচ্ছে তার বেশিরভাগই সিনিয়র টেকনিক্যাল পজিশনে। ফলে ওই খালি হওয়া পজিশনে ফ্রেশারদের নেয়া সম্ভব হয় না।
২.আপনারা যদি একটু মন দিয়ে খেয়াল করেন, দেখবেন, জব সার্কুলারগুলোতে বিজ্ঞাপিত পদগুলোর একটা বড় অংশই সিনিয়র পজিশনের। কোনো কোনোটি টেকনিক্যাল ও ডিসিশন মেকিং লেভেলের। প্রায়ই ফ্রেশাররা এবং তাদের সহানুভবরা বলেন, নতুন লোককে একটু শিখিয়ে নিলেই তো তারা সব কাজ করতে পারে। এটি খুব খেলো একটি কথা হয়ে গেল না? ৫ বছর জব করে একজন মানুষ যেই দক্ষতা অর্জন করেন, তিনি সেই জব ছাড়লে যেই ভ্যাকান্ট পজিশন তৈরী হয়, সেখানে একজন ফ্রেশার নিয়ে তাকে ৩ মাসে সেই সমান দক্ষ করে তোলা সম্ভব? 
৩.যেমন ধরুন, আমি প্রায়ই বিজ্ঞাপন দেখি, জিএম-ওয়াশ-গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে। আবেদন করেন ফ্রেশার। আপনি কি জানেন, একজন সুদক্ষ এমনকি আধাদক্ষ ওয়াশ টেকনিশিয়ান তৈরীতে ঠিক কতটা সময়, শ্রম, নিবেদন, এনার্জি দিতে হয়? সব কাজই কয়েক দিনে শিখিয়ে নিলে করতে পারবে- এই ভুল ধারনা কীভাবে হল আমাদের? জাস্ট ভাবুনতো, একটি ওয়াশ প্ল্যান্ট কিংবা একটি পাওয়ার প্ল্যান্টের সুপার টেকনিক্যাল জব কি একজন ফ্রেশারের হাতে দিয়ে দিতে পারবে একজন মালিক?

আরেকটা লজিক বলি, দেশের বাজারে ২৬ লক্ষ গ্রাজুয়েট বেকার, মোট বেকার কিন্তু আরো বেশি (৪ কোটি ২০ লক্ষ)। ধরে নিলাম, এই ২৬ লক্ষ বেকারের সবাই ফ্রেশার। এক গার্মেন্টস সেক্টরেই কর্মীর ঘাটতি ১০ লক্ষ। অথচ কেউ গার্মেন্টসে যাবে না। বিদেশে গিয়ে থালাবাসন ধোবে, তবু দেশে মেশিন চালাবে না। তাদের একটাই কথা, “লেখাপড়া শিখেছি কি শ্রমিক হতে?” আরে ভাই, গরীব দেশে বাবুগীরি জব কোথা হতে আসবে? আর এই আমরাই তো আমেরিকায় ডিভিতে গিয়ে থালাবাসন মাজি। ভাবতে পারেন, আমাদের ২৬ লক্ষ গ্রাজুয়েট হতে ১০ লক্ষ যদি গার্মেন্টসের ঘাটতি শ্রমিকের যায়গাটা নিত, কী ভিষন পরিবর্তন এসে যেত সেক্টরটাতে? ভাবুন একবার? যেই পরিবেশ খারাপের অভিযোগে আমরা গার্মেন্টসে যাই না, আমরা সাহস করে গেলে সেক্টরটাই বদলে যেত। আমরা সবাই খুঁজি, বানিয়ে দেয়া বাগান, মরুর বুকে বাগান করে নিতে কেউ চাই না।

আরে ভাই, বেকার থাকার চেয়েও কি গার্মেন্টসের চাকরী খারাপ?

ফ্রেশার বেকাররা আমাকে বলেন, যেকোনো জব দিন, করব। আমি একবার পিয়নের জন্য দু’দিন লোক খুঁজলাম-১৫,০০০ বেতন। কেউ রাজি না। একবার একটা চমৎকার কোম্পানীর মার্কেটিং বিভাগের জন্য ফ্রেশার খুঁজলাম-বেতন ২০,০০০। ৩ জন আবেদন করেছে।

ফ্রেশারদের জব না হবার বা না দেবার আরো কিছু কারন বলি-
১.টেবিল চেয়ার এসি রুম কেন্দ্রীক জব করার প্রবণতা
২.শুরুতেই বিরাট স্যালারীর প্রত্যাশা
৩.ট্রেনিং শেষ হলেই অন্যত্র জব নিয়ে চলে যাওয়া। মালিকের ইনভেস্টমেন্টকে কোনো প্রতিদান না দিয়ে।
৪.যোগ্যতা না বাড়িয়ে শুধু শুধু জব মার্কেটে ভীড় করা।
৫.জব মার্কেটের সাথে সামঞ্জস্যহীন বা গতানুগতিক বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করে চাকরীর বাজারে জব খোঁজা। আপনি মনে করুন, পড়াশোনা করেছেন, বিশ্ব ঐতিহ্য নিয়ে। বাংলাদেশের মতো গরীব দেশে ওই বিষয়ের চাকরী কয়টা সৃষ্টি হবে বছরে? সারাদেশে সবাই বিবিএ গ্রাজুয়েট। তার আবার মানের অবস্থা ভয়াবহ। তো, কখনো হিসাব করেছেন? বছরে কতজন বিবিএ হোল্ডারদের জব সৃষ্টি হয়? আপনি ভুল সাবজেক্টে পড়াশোনা করলে তার দায় তো ব্যবসায়ীদের না। আর ধরেন, দেশে চাকরী আছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের। সেখানে কি আমি একজন জনপ্রশাসনে গ্রাজুয়েশন করাকে নেব?

তাহলে উপায়? উপায় আছে বলেই তো ফ্রেশারদের জব হচ্ছে। সবাই তো তা নাহলে বেকার থাকত।

হচ্ছে বলেই বেকারের সংখ্যা ৭ লক্ষ করে বাড়ছে না। আমরা কীভাবে ম্যানেজ করি জানেন, আমরা তবুও প্রতিবছর কিছু ফ্রেশার নিই। ফ্রেশারদের নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকার পরও, আমার প্রতিষ্ঠানে নানা কারনেই প্রতিবছর গড়ে ২০-৩০ জন নিই। তাদেরকে বিভিন্ন বিভাগে পুলের//কোটার বাইরে নিয়োগ দিই। তারপর তারা রেডি হয়ে গেলে তাদের বিভিন্ন জুনিয়র পজিশনে কাজে লাগাই। কখনো কখনো এমনও করি, একটি সিনিয়র পোস্ট খালি হলে ভিতর হতে একজন জুনিয়রকে সেই পজিশনে দিই। তারপর একজন ফ্রেশার নিয়ে সেই জুনিয়রের কাজ শিখতে লাগিয়ে দিই। ঠিক এই পদ্ধতিতেই বেশিরভাগ ফ্রেশারদের ভাগ্য সচল থাকে। কিন্তু ভেবে দেখুন, এমন নিবিড় ম্যানেজমেন্ট করা নিশ্চই খুব সহজ কাজ না। আর পুলের অতিরিক্ত লোক প্রতিপালনের ক্ষমতা ও লজিস্টিকস কয়টি প্রতিষ্ঠানের আছে? তাছাড়া, ফ্রেশার নিয়ে তাকে শেখানোর মতো সক্ষমতাই বা কয়টা প্রতিষ্ঠানের থাকে? যেখানে তাকে প্রতিটি মানুষ হিসাব করে নিতে হয়? একজন ব্যস্ত কর্মী নিজের কাজের ফাঁকে কতটা সময় পাবেন নতুনকে শিখাতে? নিশ্চই এখন আবার বলবেন না, কেন আমরা প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে একটা করে ট্রেনিং সেন্টার রাখি না? ভাই, যারা ব্যবসা করতে নেমেছেন, তারাতো নিজের মতো করে ব্যবসাটা করবেন। আমাদের মতো করে সব করবেন কি?

আমার লেখাটি পড়ে আপনি হয়তো এখুনি কিছু প্রতিউত্তর দিতে বসে গেলেন? কিংবা কিছু রূঢ় উত্তর দিতে, মনে মনে গালি দিচ্ছেন কিংবা কমপক্ষে কিছু ত্যানা কমেন্ট করতে। তার আগে একই বিষয়ে আপনি আমার আরো কয়েকটি লেখা আগে পড়ে নিন। যেকোনো বিষয়ের আপেক্ষিক কিছু দিক থাকে। আর থাকে একজন লেখক/প্রোফেশনালকে দীর্ঘমেয়াদে বিচার করা। আমার লেখা ও কাজকে সার্বিকভাবে দেখুন। শুধু একটি লেখা পড়েই কোনো এজাম্পশনে চলে আসবেন না। আগে লেখাগুলোও পড়ুন। তারপর আমার পোস্টমর্টেম করুন। কোনো আপত্তি নেই।

[এটা কোনো একাডেমিক রিসার্চমূলক লেখা নয় বিধায় তথ্যগত বিভ্রাট থাকতে পারে। লেখা কপি/পেস্ট/চুরি করবেন না দয়া করে। প্রয়োজনে শেয়ার করুন।]

আমি একই বিষয়ে লেখা আমার আগের আরেকটি লেখা নিচে দিলাম। দুটোই আপনার কাজে আসার কথা:

ফ্রেশারদের চাকরীর বাজার: কিছু ভ্রান্তি বিলাস-ওয়ালিদ 
।।--।।
কর্পোরেট জগতে পরিচীতি তৈরী হওয়ার সুবাদে আর এইচআরে কাজ করার সুবাদে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের মানুষের সাথে ইন্টার‌্যাক্ট করার সুযোগ হয়। কখনো ফোনে, কখনো সামনাসামনি, কখনো মেসেঞ্জারে, কখনো ভাইবার বা ফেসবুক ওয়ালে। কখনো তারা সরাসরি প্রশ্ন বা মন্তব্য করেন কখনো প্রফেশনাল পোষ্টে কমেন্ট করেন। নিজে একজন প্রফেশনাল হবার কারনে লেখালেখির একটা বড় অংশই থাকে ক্যারিয়ার রিলেটেড। মানুষ অবসর সময়ে গান শোনে, সিরিয়াল দেখে, আড্ডা দেয়, আইপিএল দেখে। কেউ কেউ আবার বাসার খাটে শুয়ে নিজের অপত্ত পোলাপানের সাথে রোমশ বুক উন্মুক্ত করে খালি গায়ের সেলফী পোস্ট করে। আমি নিজের ব্যক্তিগত সময়টাতে লেখালেখি করি কারন ওটাই আমার প্যাশন। ওটা করেই সময় কাটাই। এখন ব্যাক্তিগত সময়ে লেখালেখি করে সেটা আবার নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোষ্ট করা নিশ্চই গুনাহের কাজ নয়?

চাকরীর বাজারে আমাদের ফ্রেশার ক্যান্ডিডেটরা প্রায়ই মন্তব্য বা অনুযোগ করেন, আমরা ক্যারিয়ার রিলেটেড এত পোষ্ট দিই অথচ তারা একটা সুযোগ পান না, তাদের কাছে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় অথচ প্রথম চান্সটি না পেলে তারা অভিজ্ঞতা কোথায় পাবেন, সব চাকরীতে অভিজ্ঞতা চাইলে তারা কোথায় জব পাবেন ইত্যাদি। আমি তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, বাংলাদেশের যেকোনো সরকারী চাকরীতো বাই ডিফল্ট ফ্রেশারদেরই দেয়া হয়। আপনারা হয়তো জানেন না, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রতিমাসে হাজার হাজার ফ্রেশার চাকরীতে ঢোকেন। ভাই, সিম্পল ম্যাথ, ফ্রেশার যদি কেউ নাই নিত, তবে প্রতিবছর দেশে বেকারের সংখ্যাটাতো বিন্দুমাত্র কমত না। কেউ না কেউ তো তাদের নিচ্ছে ঠিকই। সমস্যা হল, চাকরীদাতা আর চাকরীপ্রার্থীর মধ্যে ব্যাটে বলে হচ্ছে না।

আর ফ্রেশাররা যে অনুযোগ করেন যে, কোম্পানীগুলো কেন ফ্রেশার নেয়না তার একটা যৌক্তিক উত্তর আছে। ভাইয়েরা, প্রাইভেট কোম্পানীগুলো সরকারের মতো সামাজিক কর্তব্য পালন করতে পারবেন না। সেটা তাদের কাজও না। তাদের কাজ হল ব্যবসা। সেটা রক্ষা করে তবেই যাবতীয় সামাজিক কর্তব্য। হ্যা, ইস্যু হল, ব্যবসা করার ভিতর দিয়েই তারা সামাজিক দায়ীত্ব পালন করতে পারেন এবং তারা সেটা করছেনও। কী করতে পারেন তারা? উত্তর হল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আর সোস্যাল মার্কেটে মানি ফ্লো সৃষ্টি করে। কথা হল, আপনাদের দাবী মোতাবেক যদি কোনো কোম্পানী ফ্রেশার নিয়োগ না দিয়ে থাকে তবে বছরে ৭ লক্ষ ফ্রেশার বেকার সৃষ্টি হত। তাহলে বিগত ৪৫ বছরে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা কত হত? সেই ৭২ সালে যারা ডিগ্রী করেছেন তারা আজও বেকার থাকতেন। আছেন কি তারা?

আর তাছাড়া একজন উদ্যোক্তা তার প্রতিষ্ঠানে কেমন কর্মী নিয়োগ করবেন সেটা তার স্বাধীনতা। ব্যবসার স্বার্থে তার যেমন মানুষ দরকার তেমনই তো নেবেন। তবে কিছু কালপ্রিট আছে যারা ফ্রেশারদের স্বার্থ রক্ষার নামে তাদেরকে বিক্ষুদ্ধ করে তুলছে এই বলে যে, নিয়োগদাতারা ফ্রেশারদের কেন বেশি বেশি নেন না। বিপ্লবী কথা বলে তারা আপনাদের বিক্ষুদ্ধই শুধু করতে পারবে। বিপ্লব চাইলে পল্টনে যেতে হবে। চাকরী করতে হলে বাস্তববাদী হতে হবে। আসল সমস্যাটা হল, ব্যাটে বলে হচ্ছে না। গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান প্রতিমাসে বিরাট সংখ্যায় ফ্রেশার নিয়োগ করেন। আমার নিজের প্রতিষ্ঠানও। হয়তো আপনি সেটার সুযোগ নিতে পারেন না নানা কারনে।

ফ্রেশার সহসা কেন নিতে চায়না প্রাইভেট কোম্পানী সেটা জানেন? আস্থার অভাব আর দক্ষতার অভাব। বিশ্বস্ততার অভাব মানে হল, আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখি ফ্রেশারদের একটা অংশ চাকরীতে ঢোকার পর একটু অভিজ্ঞতা (৬ মাস-১ বছর) হলেই বড় বেতনের হাতছানিতে চলে যান। অযুহাত দেন যে, এখানে ভবিষ্যত নেই, কাজের পরিবেশ নেই, বেতন কম ইত্যাদি। ভাই, আপনি এসব কিছু জেনেই তো ঢুকেছেন তাহলে আজ এ প্রশ্ন কেন? আর আপনার নিয়োগদাতা আপনাকে ফ্রেশার হওয়া স্বত্বেও নিয়েছেন, তার কৃতজ্ঞতাস্বরুপও তো আপনার একটা দায়বোধ থাকে। নিয়োগদাতা তার পেছনে যে অর্থ, সময়, এনার্জি ও অপর্চুনিটি ইনভেষ্ট করেন তার কিছুমাত্র রিটার্ন (ROI) পাবার আগেই এমনকি ভদ্রতাসূচক রিজাইনটাও না দিয়ে অনেকে চলে যান। কিছু কিছু অবিবেচকের এই কুঅভ্যাসটি বাকিদের জন্য পথটি রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেখানে প্রতিটি টাকারই (ROI) হিসেব করে চলতে হয় সেখানে একজন নিয়োগদাতা তো চাইবেনই তার একজন কর্মী প্রথম দিন না হোক, দ্বিতীয় দিন হতে তার টেকনিক্যাল ডিউটি শুরু করুক। তাতে করে তার কাজ জানা অভিজ্ঞ লোক হলেই তো বেটার তাই না? ভেবে দেখুন, চাকরী বাকরী না পেয়ে আপনি একটা কল সেন্টার দিলেন। সেখানে কাদের নিয়োগ দিতে চাইবেন? একদম আনকোড়া নতুন মানুষ যাদেরকে আপনার কাজ শেখাতে হবে নাকি বিনা কষ্টে আপনি কাজ জানা লোক নেবেন? না আমাকে মালিকদের দালাল ভাববেন না। আমি শুধু ভিতরকার রিয়েল চিত্রটা বললাম। আপনি নিয়োগকর্তাদের এই নীতির সাথে দ্বিমত হতে পারেন, রাগ করতে পারেন। তাতে কী এসে যায়? সমস্যার তাতে কি পরিবর্তন হবে।

কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, চাকরী না করলে অভিজ্ঞতা কোথায় পাব? সংক্ষেপে শেষ করার স্বার্থে বলি, অভিজ্ঞতার জন্য প্রথমেই মাল্টিন্যাশনাল না খুঁজে যেখানে পারেন ঢুকে পড়ুন, সেটা যদি আপনার দৃষ্টিতে থার্ড ক্লাস কোম্পানীও হয়। কাজ শিখুন, অভিজ্ঞতা অর্জন করুন, চ্যালেঞ্জ নিতে শিখুন, কর্পোরেট কালচারে, লোড নিতে অভ্যস্ত হোন। ৩টি বছর যেতে দিন। তারপর অন্যত্র এপ্লাই করুন। যারা বলবেন, সেই থার্ড ক্লাসেও তো ডাক পাচ্ছিনা। তাদের বলছি, চাকরীর অভিজ্ঞাতা যদি নাও নিতে পারেন তবে আরো কিছু কাজ করে নিজের সিভি ভারি করা সম্ভব যেগুলোকে আমরা মূল্য ‍দিই ইন্টারভিউতে-ফ্রিল্যান্স আউটসোর্স করুন। বলবেন বেকারদের ইন্টারনেট বিল দেবার পয়সা কে দেবে? ভাই, ঢাকার অনেকগুলো স্পটে ফ্রি ওয়াইফাই আছে। ওখানে গিয়ে পড়ে থাকতে তো বলতে পারি না। তবে আপনি চাইলে নিশ্চই একটা রাস্তা বেরোবে। পত্রিকায় লিখুন, ইন্টার্নশীপ করুন, পার্ট টাইম করুন, এলাকায় একটা ছোট সংগঠন করে যেকোনো ফ্রি কাজ করুন, সোসাল সংগঠনে যুক্ত হোন, কিছু না পারলে যেকোনো সংগঠনে ভলান্টিয়ার হোন, গ্রূপ ফরম করে খরচবিহীন সোস্যাল ওয়ার্ক করুন, পথশিশুদের জন্য ফান্ড রেইজিং বা স্কুল করুন, লো এন্ডের কনজুমার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের মার্কেটিং এর কাজ করুন, ব্লগ লিখুন, ওয়েবসাইট বানানোর কাজ করুন, ডাটা এন্ট্রির কাজ নিন, কোটিং এ ক্লাস ‍নিন। ওয়েল, এরপর কেউ কেউ বলবে, আপনি এত জ্ঞান দিচ্ছেন কারন আপনি এখন সুবিধাজনক স্থানে আছেন তাই। ভাইয়েরা, যে কয়টা বললাম ওর সবকটা নাহোক, বেশিরভাগই আমি বেকার থাকাবস্থায় করে তবেই বলছি। আর এখনো যদি বেকায়দার পড়ি, আমি ঢাকার রাস্তায় বাদাম বেঁচতেও রাজি আছি। শেষ করছি তিনটি রসকসহীন বাক্য দিয়ে-ইগো বাদ দিন, সিরিয়াস ও কমিটেড হোন, তুচ্ছাতিতুচ্ছ সুযোগও কাজে লাগান। আর হ্যা, নিজের যোগ্যতার সবগুলো তীর প্রস্তুত রাখুন।

পুনশ্চ: আমি নিজে খুব বড় মাপের প্রফেশনাল বা ক্যারিয়ার এডভাইজার নই। তবু নতুনদের সাহায্যার্থে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে চাই। ক্যারিয়ার সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্ন, যেকোনো পরামর্শ, জিজ্ঞাসা, তথ্যসাহায্য আমাকে লিখতে পারেন। আমি সবজান্তা না হতে পারি তবে বেশকিছু এক্সপার্ট বন্ধু আছেন আমার। তাদের সাথে আপনাদের ট্যাগতো করে দিতে পারব। সরাসরি আমাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে লিখুন। কিংবা আমার পেজ Career Circle এও লিখতে পারেন। সময়মতো উত্তর দেব।

সবশেষে একটা সেল্ফ টেস্টিমনি দিই? সমাজ সেবার জন্য কিংবা সোস্যাল/কর্পোরেট ডেভেলপমেন্টের জন্য অনেকেই অনেক কিছু করেন। জরুরী নয় যে আপনি যেটা করছেন আমাকে সেটাই করতে পারতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই ইন্ট্রোভার্ট মানুষ। আর পেশাগত উন্নয়ন কিংবা বেকারদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা আছে কিন্তু সামর্থ সীমিত। অন্যদের মতো অনেক কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই নানা কারনে। আমার একটাই যোগ্যতা সেটা হল লেখালেখি। আমার শুভাকাঙ্খি ও সমাজসেবারত ভাইয়েরা, আমি এই এতটুুকুই পারি-নিজের অভিজ্ঞতাকে লিখে শেয়ার করতে। আমি জানি আপনি অনেক কিছুই করছেন সমাজের জন্য। আমি যাস্ট আপনাকে হেল্প করছি। কারন আমার সাধ্য এতটুকুই। আমি আমার নিজ কর্মস্থলে কতটুকু আধুনিকায়ন করতে পেরেছি (এত যে বকবক করি তাই কেউ কেউ জানতে চান, তাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা) তার উত্তরে বলব, আমরা যাস্ট চাকরী করি। চাকরীস্থলের উন্নয়ন শুধু আমার একার স্বপ্ন মোতাবেক তো হবে না। আমি যা চাই সব নিশ্চই সে রকম হবে না। টপ ম্যানেজমেন্টের ভিশনই ওখানে শেষ কথা।