বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

ভিন্ন রঙে আঁকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব ও এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আত্মহত্যা সমাধান নয় যেভাবে প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখতে চাই অত:পর, কোন একদিন...... দ্রুত ওজন কমানোর কিছু কৌশল জাপানের সুমিতমো বৃত্তি পেল ঢাবির ৪০ শিক্ষার্থী চীন যাচ্ছে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) বাগেরহাটের ১০ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ও তরুণ প্রজন্ম জাপান সরকার দিচ্ছে মেক্সট স্কলারশিপ উচ্চ মাধ্যমিকের পর ক্যারিয়ার পরিকল্পনা মাসের খরচের টাকা বাঁচিয়ে ব্যতিক্রম লাইব্রেরি চালান রাজশাহীর বদর উদ্দিন ঢাকায় প্রথম পিআর অ্যান্ড ব্র্যান্ড কমস সামিট ২৬ অক্টোবর রাজনীতি-ক্ষমতা ও তারুণ্য গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও তারুণ্য

নাসায় আলোর তারা

অনলাইন ডেস্ক

৭ অক্টোবর, ২০১৯ প্রথম বাংলাদেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নাসায় যোগ দিয়েছেন সিলেটের মেয়ে মাহজাবীন হক। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে 'ইটা কারিনে'র মতো নক্ষত্র ব্যবস্থা আবিস্কার করে জ্যোতির্বিদ্যার জগতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন তরুণ বাংলাদেশি গবেষক ড. রুবাব খানের নেতৃত্বাধীন নাসার একদল গবেষক। ২০১৭ সালে নাসা 'গডার্ডস এফওয়াই সেভেন্টিন আইআরএডি ইনোভেটর অব দি ইয়ার' হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন মাহমুদা সুলতানা। হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে আরেক বাংলাদেশি তনিমা অনন্যা 'ওরায়ন নেবুলা' নামে একটি তারকাগুচ্ছের অ্যাটলাস তৈরি করেও আলোচনায় আসেন। নাসায় আলো ছড়ানো বাংলাদেশিদের নিয়ে এবারের প্রচ্ছদ রচনা করেছেন মুনতাসির রশিদ খান

১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা নাসা। গণিত, পদার্থবিদ্যা আর কম্পিউটার সায়েন্সের সর্বাধুনিক তত্ত্বের প্রয়োগ করে মহাকাশ সম্পর্কে নাসা মানুষের জ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বর্তমানের নাসায় কাজ করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৭,২১৯ জন কর্মী। নাসায় বাংলাদেশি হিসেবে প্রায় তিন দশক আগে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশি হাসান রহমান। পৃথিবীর একমাত্র মাল্টি বিলিয়ন ডলারের নাসার গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য বিভাগটি হাসান রহমানের ডিজাইনে বাঙালিদের হাতেই তৈরি। এ ছাড়া হিউস্টনে সংস্থাটির তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজ করছেন আরেক বাংলাদেশি নাজ হোসেন। নাসা যখন মহাশূন্যে কোনো যান পাঠায় তখন তা নিয়ন্ত্রিত হয় এই হিউস্টন কার্যালয় থেকেই। 'জনসন স্পেস সেন্টার' নামে পরিচিত নাসার এ কার্যালয়ে ১২ জন বাংলাদেশি কাজ করছেন। নাসা আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও ভালো করছেন তরুণ বাংলাদেশিরা। এ ছাড়া ২০২৫ সালে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মার্কিন এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। এতে তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত আছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি। সেখানে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন আরেক বাংলাদেশি আফজাল আহমেদ। বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী কাজ করছেন নাসার বিভিন্ন বিভাগে। চলুন, নাসায় আলো ছড়ানো চার তরুণ বাংলাদেশির গল্প শুনি-

স্বপ্নের পথে মাহজাবীন

গত ৭ অক্টোবর, ২০১৯ প্রথম বাংলাদেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নাসায় যোগ দিয়েচ্ছেন সিলেটের মেয়ে মাহজাবীন হক। চলতি বছরেই মিশিগান রাজ্যের ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন মাহজাবীন। তিনি ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে দুই দফায় টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে ইন্টার্নশিপ করেছেন। প্রথম দফায় ডাটা অ্যানালিস্ট এবং দ্বিতীয় দফায় সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে মিশন কন্ট্রোলে কাজ করেন। দুই দফায় ৮ মাস দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করেন তিনি। এই কাজের মাধ্যমে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন মাহজাবীন। নাসা এবং অ্যামাজনসহ বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা কোম্পানি থেকে তিনি চাকরির অফার পেয়েছেন। এর মধ্যে নাসাকেই বেছে নেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই নাসায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন মাহজাবীন। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার কৃতিত্ব তিনি দেন তার মা ফেরদৌসী চৌধুরীকে। পেইন্টিং ও ডিজাইনে পারদর্শী মাহজাবীন হক ২০০৯ সালে পিতা-মাতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যান। কর্মসূত্রে পিতা সৈয়দ এনামুল হক সিলেটে অবস্থান করলেও তার সঙ্গে সবসময় থাকেন মা ফেরদৌসী চৌধুরী ও একমাত্র ভাই সৈয়দ সামিউল হক। সৈয়দ সামিউল হক ইউএস আর্মিতে কর্মরত। তারা সিলেট নগরীর কাজীটিলাস্থ হক ভবনের স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে মা ও ভাইকে নিয়ে মাহজাবীন থাকেন মিশিগানে।

হৈচৈ ফেলে দেওয়া তরুণ রুবাব

২০১৬ সালের শুরুর দিকে 'ইটা কারিনে'র মতো নক্ষত্র ব্যবস্থা আবিস্কার করে জ্যোতির্বিদ্যার জগতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল তরুণ বাংলাদেশি গবেষক ড. রুবাব খানের নেতৃত্বাধীন এসানের এক গবেষণা দল। সূর্যের চেয়ে কয়েকশ' গুণ বড় পাঁচটি জোড়া নক্ষত্র আবিস্কার করে জ্যোতির্বিদ্যার জগৎ কাঁপিয়ে দেওয়া এই তরুণ বাংলাদেশি গবেষক মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ফেলো। এ পর্যন্ত তিনি ৩৫টি গবেষণাপত্র লিখেছেন। এর মধ্যে ৯টিতে প্রধান লেখক হিসেবে ছিলেন। তিনি হাবল, স্পিটজার, হার্শেল স্পেস টেলিস্কোপ ডাটার আলোকমতি এবং বহু তরঙ্গ দৈর্ঘ্য-সংক্রান্ত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রুবাব গবেষণা করছেন বেশি বয়সের এবং বেশি ভরের নক্ষত্রের পরিণতি নিয়ে। রুবাব খানের মতে, ভারি নক্ষত্র নিয়ে তার এই গবেষণা নক্ষত্রের পরিণতি নিয়ে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। রুবাব খানের ছোটবেলা কেটেছে ঢাকায়। উদয়ন স্কুল থেকে এসএসি পাস করে ভর্তি হন নটর ডেম কলেজে। সেখান থেকে এইচএসসি শেষ করে ২০০৪ সালে পদার্থবিদ্যার বিশেষ শাখা অ্যাস্ট্রোফিজিকসে পড়াশোনার জন্য কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে বৃত্তি পান। ২০০৮ সালে সম্পন্ন করেন গ্র্যাজুয়েশন। ২০১৪ সালে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন অ্যাস্ট্রোনোমিতে।

নাসার ইনোভেটর অব দি ইয়ার জয়ী মাহমুদা

২০১৭ সালে নাসা 'গডার্ডস এফওয়াই সেভেন্টিন আইআরএডি ইনোভেটর অব দি ইয়ার' হিসেবে মনোনীত করে মাহমুদা সুলতানাকে। এই পুরস্কার তিনি পেয়েছিলেন নাসায় কর্মরত সবচেয়ে কনিষ্ঠ নারী হিসেবে। 'কোয়ান্টাম ডট সেন্সর' থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে তৈরির উপায় আবিস্কার করায় তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন। তাকে নিয়ে নাসার সাময়িকী 'কাটিং এজ' প্রচ্ছদ প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিল। মাহমুদার জন্ম বাংলাদেশে হলেও কৈশোরে তিনি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি দেন। ২০১০ সালে এমআইটি থেকে কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেন। সরাসরি এমআইটি থেকেই নাসায় তিনি গবেষক হিসেবে যোগ দেন। আইআরএডির দেওয়া আরও ১০টি পুরস্কারের জন্য তার নাম উঠে এসেছিল। নাসার সাময়িকী কাটিং এজের প্রচ্ছদেও উঠে এসেছেন মাহমুদা। গবেষণার পাশাপাশি মাহমুদা ন্যানোটেক সম্মেলনে নাসার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি গডার্ডের ইনস্ট্রুমেন্ট ও পেলোড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রাঞ্চের অ্যাসোসিয়েট ব্রাঞ্চ হেডের দায়িত্বও মাহমুদাকে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি তার আবিস্কার পরবর্তী প্রজন্মের কিউবস্যাট ও অন্যান্য মিশনের যন্ত্রপাতিতে ব্যবহার করতে পারবেন।

অনন্যার তৈরি অ্যাটলাস

নাসায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১১ সাল থেকে কাজ করা তনিমা অনন্যা 'ওরায়ন নেবুলা' নামে একটি তারকাগুচ্ছের অ্যাটলাস তৈরি করেন হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে। তার গবেষণার বিষয়টি ছিল এক্স-রে দ্বারা বিগত সাড়ে ১২ বিলিয়ন বছরে এ ধরনের সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের একটি সেনসাস তৈরি করা। এই সেনসাস তৈরি করতে তিনি একটি নিউরাল নেটওয়ার্ক কোড করেন। অনন্যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমুথ কলেজে একজন পোস্ট ডক্টোরাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছেন। এর বাইরে তিনি ইউরোপিয়ান নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারে কাজ করেছেন। এ ছাড়াও তিনি তার পিএইচডির অংশ হিসেবে জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোটেরিস্ট্রিয়াল ফিজিকসে ব্ল্যাকহোল নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি ঢাকার মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এ-লেভেলে ছয়টি সাবজেক্টে 'এ' পান। ২০০৬ সালে তিনি কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল থেকে ও-লেভেল পরীক্ষায় দশটি 'এ' এবং চারটি ডিস্টিংশন পান।

এই স্বপ্নবাজ তরুণদের হাত ধরে একদিন বাংলাদেশও অংশ নেবে মহাকাশ অভিযাত্রায়। কোনো অজানা নক্ষত্রপুঞ্জ কিংবা ছায়াপথে ছুটবে লাল-সবুজের দুরন্ত মহাকাশযান! সৌজন্যে- সমকাল