সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

একজন মানবসম্পদ কর্মী হওয়ার প্রাথমিক পাঠ কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজমে রহস্যময় সুন্দরবনের সৌন্দর্য কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজমে রহস্যময় সুন্দরবনের সৌন্দর্য স্বপ্ন জয়ের স্বপ্নযাত্রা ভিন্নদৃষ্টির বিজয় র‍্যালি আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয় তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তা হওয়ার বাধা জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে না শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার চাপ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে ফেলেছে সাজগোজের রিমি নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের প্রত্যাশা কীভাবে নিবেন একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও স্মার্ট ডিসিশন ফ্রেশাররা কেন চাকরি পায়না ইন্টারভিউ নেয়ার সঠিক ও জরুরি কৌশল

কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজমে রহস্যময় সুন্দরবনের সৌন্দর্য

জাকির হোসেন রাজু

সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ, খুলনা এর আওতাধীন সাতক্ষিরা রেঞ্জের কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এক অনাবিল সুন্দরবনীয় সৌন্দর্যসম্ভোগ। প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখেই এখানে বন্যপ্রাণীদের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থাদি যেমন রয়েছে তেমনি সুন্দরবনের একদম ভিতরে বন্যপ্রাণীদের পানিয় জলের অভান মিটাতে রয়েছে সুপেয় জলের একটি পুকুর, এ যেন মানুষ আর বন্যপ্রাণীর একই আবাস। দুষ্ট বাদর যেমন মুখ ভেংচি কেটে এখানে ভয় দেখায় আবার মায়া হরিণ তেমনি এখানে মায়াজড়ানো মায়াবী চোখ তুলে আপনার কাছে চলে আসে সামান্য খাবারের জন্য। বিশাল লম্বা বনের মধ্যের ট্রেইল দিয়ে হাটতে গিয়ে বুক দুরদুর ভয় আপনাকে জড়িয়ে থাকবে আবার ৫ তলা সম ওয়াচ টাওয়ার থেকে দেখতে পাবেন সবুজের অরণ্য, সে অরণ্যজুড়ে রয়েছে সুন্দরি, গেওয়া, গরাণ, কেওড়া, পশুর, বাইন, কাকড়া ও গোলপাতা সহ মোট ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ। লোকালয় থেকে বেশ দূরে বনের ভিতরে এই ট্রেইল এবং টহল ফাঁড়ি তাই এখানে শুনশান নিস্তব্ধতায় ছেয়ে থাকে চার পাশ তবে সব নিরবতা ভেঙে বানরের ডাক আর ভেঙচি কাটা যেন ভয়ের সঞ্চার করে। ট্রেইলের আশেপাশে এত ঘন বন যে দৃষ্টিসীমা নেমে আসে কয়েক গজে আর সাথে তো বাঘের ভয় আছেই, সে এক অন্যপ্রকার অনুভূতি, ভয়জড়ানো এ্যাডভেঞ্চার। 

আমরা সব থেকে যে চরম দুর্দশায় পড়েছিলাম সেটা হল লাঠি চাড়াই ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পড়া, আপনি ভাবছেন ওয়াচ টাওয়ারে আবার লাঠির কি দরকার!!!!  হ্যাঁ দরকার বৈকি কারণ বানরের যে উপদ্রব সেটা তো আপনি দেখেননি। আমরা যখন ওয়াচ টাওয়ার এর উপরে উঠে ছবি তোলায় ব্যস্ত তখন বুনো বাদরের দল কখন উপরে উঠে এসেছে এবার শুরু হল তাদের হামলা আমাদের পথ আটকে মুখ ভেঙচি কেটে দাঁড়িয়ে আছে নামতে গেলেই তেড়ে আসে আক্রমণ করতে তাদের আক্রমণে হয়তো আমরা মারা যাবো না তবে আহতাবস্থা হবে নিশ্চয় কারন এদের দাত এবং নখ খুব সার্প খামচি কেটে দেয় নাকে মুখে। আমরা তাগড়া চার পাঁচটা লোক কিন্তু একটা লাঠি না থাকায় বানরদল আমাদের এমন এক সমস্যায় দিলো ফেলে যে আমরা প্রায় হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম ওদিকে সন্ধ্যা নামলো বলে পরে আমাদের সাথে থাকা দুজন মাঝি ভাই আর আমাদের সবার ব্লেজার খুলে বানর তাড়াতে শুরু করে দিলাম সম্মিলিত ভাবে, লিখতে গিয়েও মনে পড়ছে সেই শোচনীয় অবস্তার কথা, হাতিয়ার ছাড়া মানুষ বনে কি করুণদশায় পড়তে পারে তার নমুনারূপ দেখে। আমার মনে হয়েছিলো এই বানর তো ছোট বাচ্চাকাচ্চা আক্রমণ করে বনে নিয়ে চলে যাবে, এই জন্যই হয়তোবা বলা হয় বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। এখানে বানর ফোন ছিনতাই করে বনে উধাও হয়ে গেছে এমন খবর ও কিন্তু বিরল নয় তাই বানর থেকে সাবধান এবং ওয়াচ টাওয়ারে ওঠার আগে অবশ্যই লাঠি নিয়ে উঠবেন।

আমরা ছিলাম মোট চারজন দুজন বোট চালক, যদিওবা যায়গাটা সাতক্ষিরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের সুন্দরবনের ভেতরে অবস্তিত কিন্তু খুলনার কয়রা থেকেও এখানে যাওয়া যায় আর আমাদের বাসা কয়রা হওয়াতে আমরা সেই বিকল্প রুট ব্যবহার করে এখানে যাই খুলনা শহর থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ঘড়িলাম বাজার যা কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ানে অবস্থিত। এখানে রয়েছে কোবাদাক ফরেস্ট স্টেশন যে পর্যন্ত আশা যাবে প্রথমে বাস তারপর মোটরগাড়ি যোগে, আর এখান থেকেই যাত্রা শুরু করতে হয় ট্রলার যোগে এক ঘন্টার বেশি ট্রলার যাত্রার পর পাওয়া যাবে কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র। এই যাত্রাপথে আমরা দেখতে পেয়েছিলাম সুন্দরবনের বুনো হরিণ যার কোন বাধাবিপত্তি নেই, আছে শুধু বাঘের ভয়, চরে দেখলাম অসংখ্য বানর রোদ পোহাচ্ছে, একটা মদনটাক দেখলাম আমাদের ট্রলারের সাথে সাথে এগিয়ে চলেছে। তবে এখানে যাওয়ার জন্য পাশ নিয়ে হয় বা প্রশাসনের অনুমতিপত্র লাগে আমরা যদিওবা সহজেই অনুমতি পেয়ে যাই কিন্তু আমার সাজেশন আপনারা পাস নিয়ে যাবেন নতুবা ওখানে উঠতে ঝামেলা করবে। বিকেলবেলা গিয়ে উঠি আমরা কলাগাছিতে তারপর একদম ছেড়েদেয়া প্রাকৃতিক পরিবেশে হরিণ বানর আর অন্য সব প্রাণী দেখে মন ভালো না হয়ে উপায় থাকে বলুন! সব থেকে মজার হল মায়াবী, সিংওয়ালী হরিণ সব আপনার পিছু পিছু ঘুরতে থাকবে যদি কিনা আপনার হাতে মুড়ি চিপস এধরণের খাবার থাকে, হরিণ গুলো খুব বেশি সুন্দর আর মায়ামৃগ। এর পর সেই ওয়াচ টাওয়ারে বানর যুদ্ধ শেষে আমরা বনের মধ্যে ট্রেইলে ঢুকি, পশুর, সুন্দরি আর গেওয়া গাছের সাথে ছবি তোলার দারুণ স্পট তৈরি এবং ট্রেইল আধুনিকরনের কাজ আরো এগিয়ে চলেছে, তবে ট্রেইলে ও সাথে লাঠি রাখবেন বানরের আক্রমণ ঠেকাতে।

আমরা আবার ফিরে আসি সেই পোষা হরিণদের কাছে অবশিষ্ট খাবার খাইয়ে ফিরে আসি ট্রলারে তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে নদীতে, যে নদীর এপার ওপার সব পারে সুন্দরবন, দেখেছেন কভু এমন জায়গায় সূর্যাস্ত, হয়েছে কিবা দেখা সুন্দরবনের সুন্দর গাছের মাঝে লাল টকটকে সূর্যের ডুব দেয়া??? হ্যা হল তো এবার ফেরা যায় পিছনে পড়ে থাক হাজারো রহস্যময় সুন্দরবনের সৌন্দর্য....


জাকির হোসেন রাজু, সাব ইন্সপেক্টর, বাংলাদেশ পুলিশ (সুপারিশকৃত)