বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯ | ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

বানানভীতি রোধে প্রসঙ্গ ব্যাবহারিক বাংলা রক্তে লেখা বাংলা ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শীর্ষক বইয়ের আত্মপ্রকাশ একজন মানবসম্পদ কর্মী হওয়ার প্রাথমিক পাঠ কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজমে রহস্যময় সুন্দরবনের সৌন্দর্য কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজমে রহস্যময় সুন্দরবনের সৌন্দর্য স্বপ্ন জয়ের স্বপ্নযাত্রা ভিন্নদৃষ্টির বিজয় র‍্যালি আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয় তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তা হওয়ার বাধা জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে না শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার চাপ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে ফেলেছে সাজগোজের রিমি নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের প্রত্যাশা

ইচ্ছা আর বুদ্ধির সমন্বয় ঘটিয়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মায়া

ইয়ুথ জার্নাল প্রতিবেদক

মায়া। নিজের চেষ্টা আর আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে যিনি ছিনিয়ে এনেছেন সফলতা, হয়েছেন তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। ভারতের অন্যতম বৃহত্ পোশাক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ফ্যাবিন্ডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এরই মধ্যে করেছেন সমঝদার ব্যবসায়িক সম্পর্ক। অথচ একসময় নিদারুণ অভাবের মধ্যেই বড় হয়েছেন মায়া। ২৩ বছর বয়সী মায়ার সব স্বপ্ন যেন ভঙ্গের কারণ হয়েছিল পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট। শুধু ইচ্ছা আর বুদ্ধির সমন্বয় ঘটিয়েই নিজেকে গড়ে তুলেছেন, প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চলুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে মায়া হয়ে উঠলেন সফল এক তরুণ উদ্যোক্তা।

মায়ার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষে চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা। হাসি ফোটাবেন মা-বাবার মুখে। কিন্তু অভাবের কারণে একপর্যায়ে পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এমন সময় নিজের বাড়ির কাছেই নয়াদিল্লির একটি পোশাক রফতানি প্রতিষ্ঠানে চাকরি জোটে তার। কাপড় বুননের সঙ্গে সঙ্গে আবার নতুন করে স্বপ্ন বোনা শুরু করেন নিজের ভেতর। বেতন যা পান, তা দিয়ে সংসার ভালোভাবে না চললেও দমে যাননি তিনি। কাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে শিখে নেন পোশাক তৈরির কিছু মৌলিক দক্ষতা। ঠিক এ অবস্থার মধ্যেই একদিন চলে যায় তার চাকরি। শুরু হয় নতুন করে বাঁচার লড়াই। এবার আর তিনি একা নন; সঙ্গী হন চাকরি হারানো আরেক সমবয়সী সহকর্মী, সাহেব।

এবার তারা আর চাকরির পেছনে ছুটলেন না। অভিজ্ঞতা আর সাহস পুঁজি করে নিজেরাই ছোট্ট একটি টেইলার্সের দোকান দিলেন। সাহেবের জমানো টাকা আর মায়ার অভিজ্ঞতার বন্ধনে এগিয়ে যেতে থাকে তাদের ব্যবসা। যতই বাড়তে থাকে ব্যবসায়ের পরিসর, ততই অন্য এক ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে থাকেন মায়া-সাহেব। সীমিত জ্ঞান আর জিনিসপত্রের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তারা। এর মধ্যে মায়া হঠাত্ই ‘ইয়াং এন্ট্রাপ্রেনিয়রস’ নামের একটি প্রোগ্রামের খবর জানতে পারেন।

‘কমিউনিটি কালেকটিভ সোসাইটি ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ফাউন্ডেশন এবং মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ডওয়াইডের যৌথ আয়োজনের এ প্রোগ্রামের লক্ষ্য ছিল, যেসব তরুণ নিজেরাই ব্যবসা করতে আগ্রহী, তাদের সহায়তা করা। এ কথা জানার পরই মায়া এটিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে নিলেন। এর পর বাজার গবেষণা, উদ্দিষ্ট ক্রেতা, পণ্য বিপণনসহ নিত্যনতুন ধরন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নানা বিষয়ের ওপর দক্ষতা অর্জন করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে থাকেন; যা তাকে আরো বেশি সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। ফলে তিনি একটি ছোট কোম্পানি খুলতে আগ্রহী হন এবং একদিন তা খুলেও বসেন। বাড়তে থাকে ব্যবসার পরিসর। দেখতে থাকেন লাভের মুখ। ব্যবসার দুর্বল দিকগুলো খুঁজে বের করে তারা তার সমাধানের পথ ঠিক করে ফেলেন।

আকর্ষণীয় নতুন নতুন সব ব্লক, এমব্রয়ডারির সমন্বয়ে তৈরি পোশাক ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়। এভাবে মায়ার কাজের দক্ষতা এতটাই সুনাম অর্জন করে যে, ভারতের অন্যতম বৃহত্ গার্মেন্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক যোগসূত্র গড়ে ওঠে। বর্তমানে মায়া ও তার বন্ধু সাহেব সফলভাবে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে টেইলারিং ও ডিজাইনিং ইউনিট তৈরি করেছেন, যেখান থেকে তারা ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করেন। এভাবে ইচ্ছা ও আত্মবিশ্বাসের দ্যুতি ছড়িয়ে তরুণ এ উদ্যোক্তা আজ অনেকের কাছেই আইডল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। নয়াদিল্লির রাজপথ ছাড়িয়ে যার সুনামের সীমানা পৌঁছে গেছে অনেক দূর।