সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

First Youth News Portal in Bangladesh

add 468*60

শিরোনাম

সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে না শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার চাপ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে ফেলেছে সাজগোজের রিমি নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের প্রত্যাশা কীভাবে নিবেন একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও স্মার্ট ডিসিশন ফ্রেশাররা কেন চাকরি পায়না ইন্টারভিউ নেয়ার সঠিক ও জরুরি কৌশল ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত মিটিং করার আগে ভাবুন তারুণ্যের উৎসব বাংলাদেশ ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম-২০১৮ অনুষ্ঠিত হবে ৩০শে অক্টোবর ভয়ংকর আগস্ট ভালো হতে চেয়েছিলাম (ছোটগল্প) এইচআর নিয়ে একডজন ভুল ধারনা এবং উত্তর বিশ্ব শান্তির প্রসারে দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি সামিট অনুষ্ঠিত আত্মহত্যা নয়, জীবনকে উপভোগ করুন

আধুনিক গণতন্ত্র, উদার তথ্য প্রবাহ ও অগ্রযাত্রা

অজয় দাশগুপ্ত

বিশ্বায়ন নিয়ে বিস্তর কথা শোনা যায় আজকাল। আমরা ভুলে যাই এর শুরু হয়েছিল ইউরোপে সেই রেনেসাঁসের যুগে। ঔপনিবেশিক পৃথিবীর জন্মের গোড়ার দিকে। আপাতদৃষ্টিতে বিশ্বায়নের কোন দোষ নেই। মনে হতে পারে তথ্যের অবাধ প্রবাহ সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কে জানে সে যুগে ইন্টারনেট থাকলে হয়তো হিটলারের অপরাধ পরিকল্পনার বাস্তবায়নও রোধ করা সম্ভব হতো। এমনও মনে হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ওপর যে নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছিল, গণহত্যা চালিয়েছিল, দোসর দালাল বাহিনী যেভাবে গ্রামগঞ্জের নিরীহ বাঙালিকে ধরিয়ে দিয়েছিল তাও এতটা ব্যাপক হতে পারতো না। উপহাসের পাত্র হয়ে হয়তো কোনদিনই আলোর মুখ দেখতো না এদের ষড়যন্ত্র। এই না হলে কি আর বিশ্বায়ন বা তথ্য প্রবাহের উজ্জ্বলতা বাড়ে? এমনটাই ভেবে এসেছিলাম এদ্দিন। ভেবেছিলাম রেঁনেসা-উত্তর ইউরোপের মত মুক্তিযুদ্ধোত্তর দেশটিকে নতুন আবহ নব উদ্দীপনা দেবে বিশ্বায়নের তথ্য প্রবাহ। কিন্তু এখন কি দেখছি আমরা? বাস্তবতা কি বলছে?

'জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়' সুকান্তের কবিতার পংক্তি শুনতে ভালো লাগে বটে কিন্তু জ্বলন্ত মানুষ বা মরতে বসা আশা ও ভরসা আসলে তা চায় না। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ। বিশ্বায়ন বলি তথ্য প্রবাহ বলি বা আর যে নামেই ডাকি না কেন এর নেগেটিভ দিকগুলো এখন ভয়াবহ আকারে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। একদল মানুষ রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও লুণ্ঠনের হাতিয়ার করে তুলছে আধুনিকতাকে। মোবাইল, কম্পিউটার, এসএমএস-এর ব্যবহার হয়ে উঠেছে বিষময়। ধ্বংস, আগুন, ককলেট ফাটানো, মানুষ মারা ও যান বিনষ্টের কাজে ব্যবহূত হচ্ছে আধুনিক তথ্য মাধ্যম। দূর-দূরান্তের গ্রামগঞ্জে মুহূর্তে ক্ষেপিয়ে তোলা হচ্ছে মানুষকে। আগুনের মত দাবানলের মত ছড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিহিংসা, দিনের পর দিন সংঘটিত অপরাধ আর অপরাধীচক্রের মদতের হাতিয়ার তথ্য প্রবাহ নিঃসন্দেহে দুর্ভাবনার আরো একটি দিক খুলে সাবধানতার ডাক দিচ্ছে।

আমরা দেশের বাইরে সুরক্ষিত সমাজের অধিবাসী। রাষ্ট্র যেখানে মানুষের আস্থা ও আশার প্রতীক। এসব উন্নত দেশে রাষ্ট্র ও সরকার রাজনীতি বা দলের সেবাদাস কিন্তু নয়। এখানে দলভিত্তিক রাজনীতি আছে বটে তবে তার লক্ষ্য হচ্ছে দলের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হওয়া। ভোট অবধি সে দল ও আদর্শে পৃথক থাকে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরমুহূর্ত থেকে তাদের দুটো ভিন্ন রূপ দেখতে পাই। একটি পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার নামে অর্থনীতি ও সমাজের দেখভাল করে অন্যটি বিরোধীদলের নামে মূলত গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার প্রহরী হিসেবে সজাগ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। বিরোধীদল বলতে আমরা যে ভাংচুর, হরতাল বা জ্বালাও-পোড়াও দেখি আধুনিক গণতন্ত্রে আসলে তার কোন অস্তিত্বই নেই। একইভাবে ক্ষমতা বজায় রাখা ও গদি ঠিক রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীর যথেষ্ট এস্তেমাল বা নিজ জনগণের ওপর মারমুখি হওয়া সরকারি দলও গণতন্ত্রে অস্তিত্বহীন। তাহলে আমরা আসলে কোন্ গণতন্ত্রের কথা বলছি? কোন্ বিশ্বায়নের পক্ষে চলেছি? তারুণ্য ও যুব সম্প্রদায়কে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা-ভবিষ্যত্ বলে সুখনিদ্রা যাবার দিন শেষ। রাজনীতি ও বিশ্বায়ন কেউই তাদের সঠিক পথে নিতে পারছে না অথবা চাইছে না। শুরুতে যা বলছিলাম, একদল বিশ্বায়নের নামে তথ্য প্রবাহের কুফলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিপনা ছড়াতে ব্যস্ত, অন্যপক্ষ গণতন্ত্রের সুরক্ষা বাদ দিয়ে উন্মাদনা আর দেশিয় প্রতীক নিরাপত্তা বাহিনীর স্বেচ্ছা প্রয়োগে উন্মাদ, একে গণতন্ত্র বলা অনুচিত। উচিত নয় এর ধারাবাহিকতা মেনে নেয়া।

এখনো যে সম্ভাবনা আর ভরসার আলো চিক চিক করছে তাকে জাগ্রত রাখতে হলে সচেতন মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ শিক্ষা, সুশিক্ষা, সুরুচি আর দলাদলিহীন দেশপ্রেমেই আমাদের বাঁচাতে পারে। প্রত্যেকটি সভ্য দেশ তার ইতিহাস অতীত ও মীমাংসিত সত্যকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাবার রাজনীতি করে। তখন তার সামনে থাকে বর্তমানের সমস্যা আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। অতীতের যাবতীয় ঝামেলা সংকট মিথ্যাচার যুদ্ধাপরাধী বা অন্য বিষয়গুলোকে জাতীয় ঐকমত্যে সমাধানের পথ খুঁজে নিতে হবে। দ্বিধাবিভক্ত তারুণ্যকে আর একপাও বিভক্তির দিকে অগ্রসর হতে দেয়া যাবে না। সবচে' বড় কথা বিশ্বায়ন বা তথ্য প্রবাহের যে গলদ ব্যবহার ভুল ব্যবহার তাকে আইন করে রোধ করতে হবে। তা যদি করা না যায় অচিরেই তা খুনোখুনির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। আমরা নিশ্চয়ই তা চাই না। আমরা আমাদের তারুণ্যকে এমন একটি অবস্থানে দেখতে চাই যেখানে ক্ষুদ্রস্বার্থ, দলবাজী বা হিংসা ও ঘৃণার পরিবর্তে স্বদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যস্ত করার সদিচ্ছা লুকিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের মেধা ও মনন চাইলেই তা পারে। বিশ্বায়নের জানালা দিয়ে মুক্তমন ও উদার দৃষ্টিতে আধুনিক গণতান্ত্রিক ও সার্থক দেশগুলোর দিকে তাকালেই এর উত্তর মিলবে। নতুবা কোন আধুনিকায়নই কাজে লাগবে না। উল্টো বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে। বাংলাদেশ নিশ্চয়ই অচলায়তনমুক্ত হয়ে ঘিরে দাঁড়াবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।